বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
পাইকগাছায় এমপি’র সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ চেক পেলেন ২৯ অসহায় নারী-পুরুষ নড়াইলে স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উপলক্ষে সু বিশাল র‌্যালী নওগাঁর আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ আমন ধান ও চাল সংগ্রহ এর শুভ উদ্বোধন মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা নিহত পুলিশ স্বামীর পরকীয়ায় সংসার খরচবন্ধ অসহায় স্ত্রী সন্তানের মানবেতর জীবন কুড়িগ্রামে আনসার ও ভিডিপি কর্তৃক জাতীয় পতাকা প্রদক্ষিণ র‌্যালী উদযাপন নড়াইলে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত আজ ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি দিবস ভোক্তা অধিকার আইন বিষয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে- ইউএনও মিজাবে রহমত। ভালুকার মেদুয়ারী ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে চান যুবলীগ নেতা অধ্যাপক রবিন।।
ডুমুরিয়ায় জীবন যুদ্ধে হার না মানা জন্মান্ধ গোলক

ডুমুরিয়ায় জীবন যুদ্ধে হার না মানা জন্মান্ধ গোলক

মারিয়া আফরিন পায়েল, ডুমুরিয়া, খুলনা।।
অন্ধ মানেই অন্যের উপর নির্ভর হয়ে বেঁচে থাকা নয়, পরিবার কিংবা সমাজের বোঝাও নয়। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে সাহায্যের জন্য অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ছুটে চলা স্বাভাবিক পন্থা। কিন্তু এর ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জন্মান্ধ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার দেড়ুলী গ্রামের পিতা ও পুত্র শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ,মূল্যবান সম্পদ দুটি চোখের দৃষ্টি নেই তাদের ।
জন্ম থেকে পৃথিবীর আলো দেখেনি কোনোদিন।
জন্ম থেকেই অন্ধ গোলক দারিদ্রতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পথে পথে ঘুরে মোবাইলের ফ্লেক্সি লোড দিয়ে চলছে তার জীবন সংগ্রাম । জীবনের চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও জীবন যুদ্ধে হার মানেননি গোলক। একমাত্র অদম্য শক্তি দিয়েই প্রতিকুলতা জয় করার চেষ্টা করছেন জন্মান্ধ গোলক মন্ডল।
জন্মান্ধ পিতা ও পুত্রের বিষন্নতার কান্না প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের। দুঃখ, কষ্ট, লাঞ্চনা, বঞ্চনা কাকে বলে এ পরিবারটির দিকে তাকালে তা অনুভব করা যায়।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার দেড়ুলী গ্রামের জন্মান্ধ কানাই লাল মন্ডলের দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের মধ্যে গোলক জন্মান্ধ। তার বড় ছেলে কল্যাণ মন্ডল দিন মজুরের কাজ করে এবং তার কন্যা প্রমিলা মন্ডলকে বিয়ে দিয়েছে।বর্তমানে গোলকের পরিবারে বাবা, মা ও দাদাকে নিয়ে চার জনের সংসার খরচ চালাতে হিমশিত খেতে হচ্ছে।সহায়-সম্বল বলতে ভিটা বাড়ী ছাড়া আর কিছুই নেই।গোলকের দাদা দিন মজুরের কাজ করে যে টাকা পায় তা দিয়ে কোন রকম জীবন-যাপন করছে গোলকের পরিবার। জন্মান্ধ গোলক প্রত্যেক মাসে ৫০০শ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পায় এবং গোলকের দাদার প্রতিদিন আয় ১০০/১৫০ টাকা তাই দিয়ে চলে তাদের সংসার। তবে বিস্ময়কর হলো, চলাচল করতে পথ চিনিয়ে দিতে কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না তাদের। অনুভূতি ও নাকের ঘ্রাণ দিয়ে তাদের পথ চলা।

তথ্য সংগ্রহে গোলকের বাড়ীতে গেলে গোলকের মা গীতা রানী মন্ডল বলেন, একা বড় ছেলে যে টাকা রোজগার করে তাতে আমাদের ৪জনের সংসার কোন রকম জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। জন্মান্ধ গোলকের বাবাকে সরকার যদি একটা বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যাবস্থা করে দিত তা হলে আমরা একটু সুস্থ্য ভাবে জীবন-যাপন করতে পারতাম। তিনি আরো বলেন দাদার একার কষ্টের কথা ভেবে গোলক ভিক্ষা না করে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে লোকের মোবাইলে টাকা লোড দেয়। এতে দিনে ৪০/৫০টাকা আয় হয়। এ টাকা ও বড় ছেলে যে টাকা রোজগার করে তা দিয়েই আমাদের চার জনের সংসার কোনরকম চলে যায় ।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD