শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
ঝিনাইদহ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য ফোরামের বিজয় ঝিনাইদহে স্বামীর লাঠির আঘাতে স্ত্রী নিহত নড়াইলের লোহাগড়া ১২টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের ৪৩ বিদ্রোহীসহ ৬৭ জন প্রার্থী মহেশপুরে পরকীয়ার জের ধরে এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যা বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন সেরনিয়াবাতের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সুনামগঞ্জ সদরের নিয়ামতপুরে লাঙ্গলমার্কা কর্মীর হামলায় অটোরিক্সার কর্মী আহত রাজশাহীর কাটাখালী পৌর ফান্ড থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা গায়েব ভোটের জোয়ারে আবারও এগিয়ে বাদল চেয়ারম্যান কাঁঠালে কামালের জন্য লাঙ্গলে ভোট জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডাঃ কে আর ইসলাম কুসুমপুরা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করা হবে- এম এজাজ চৌধুরী
ডুমুরিয়ায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎ কুঠির শিল্প

ডুমুরিয়ায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎ কুঠির শিল্প

মারিয়া আফরিন পায়েল,ডুমুরিয়া, খুলনা।।
খুলনার ডুমুরিয়ায় ভাল নেই কুমার পাড়ার মৃৎ শিল্পর লোকেরা।কালের বিবর্তনে প্লাস্টিকের বাহারী প্রসাধনীর কাছে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের আদী পেশার মৃৎশিল্প। আমাদের পূর্ব পুরুষরা নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক হিসেবে মৃৎ শিল্পের তৈরি থালা, বাসন, হাঁড়ি, পাতিল, ঘটি-বাটি, বদনা ইত্যাদি ব্যবহার করতেন।কুমাররা অসম্ভব শৈল্পিক দক্ষতা ও মনের মধ্যে লুকায়িত মাধুর্য দিয়ে চোখ ধাঁধানো সব কারুকাজ করে থাকেন। নকশা করা হাঁড়িপাতিল, কলস, বদনা, পুতুল, ফুলের টব, ফুলদানীসহ বাংলার চিরাচরিত সব নিদর্শণ উঠে আসে তাদের তৈরী এসব শিল্পে।
কুমার পাড়ার পরিবার গুলির নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে । আবার অনেকেই পেটের জ্বালায় বেছে নিচ্ছেন অন্যান্য পেশা।আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিনে দিনে হরিয়ে যাচ্ছে মৃৎ শিল্পের ব্যবহার। তার উপর সরকারের নেই কোন নজরদারী,ফলে অচিরেই বাধ্য হয়ে এ পেশা তাদের ছাড়তে হবে।
তারপরও দেশে এমন এলাকা বা এমন গ্রাম আছে যেখানে এখনো বাংলার ঐতিহ্য তারা ধরে রেখেছে।এতকিছুর পরও অনেকে শত কষ্টের মাঝেও বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এমনটি জানিয়েছেন কুমার পাড়ার অনেক পরিবার। শত-শত বছরের এই আদী শিল্প বাচাতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। উপজেলার ডুমুরিয়া সদর,শরাফপুর,চিংড়া,মলমলিয়া সহ অনেক কুমার পাড়া ঘুরে তাদের জীবন-জীবিকার খোঁচ খবর নিতে এসব কথা বেরিয়ে আসে।শরাফপুর কুমার পল্লির অজয় পাল,শুকুমার পাল,সুসান্ত ও পাল জানান পুর্ব পুরুষ থেকে এই পল্লীতে ৫৫/৬০টি পরিবার মাটির তৈরী হাড়ি,পাতিল,কলসি,বদনা, মাইঠা সহ বিভিন্ন উপকরন তৈরী করে বিভন্ন বাজারে বিক্রি করে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল।কিন্ত বর্তমানের আধুনিকতায় টিন,স্টিল,প্লাসটিকের তৈরী মালামালের কাছে তাদের পন্যের ব্যবহার দিনে দিনে লোপ পাচ্ছে।চাহিদার ঘারতির পাশা-পাশি দিনে দিনে বেড়েই চলেছে বেকারত্ব।এমতবস্থায় অনেকেই এ পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অজয় পালের কন্যা গাওঘরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী রিপা পাল তুলে ধরেন তাদের পরিবারের আত্মকাহিনী। জানান ৫ সদস্য বিশিস্ট পরিবারের ৪ জন দিন-রাত শ্রম দিচ্ছে। তাতেও ফিরে আসছেনা পরিবারের সচ্ছলতা।আসছে শারদীয় দুর্গা পুজায় হয়তো জুটবে না নুতন পোষাক। সারা দিন রাত খেটে যে পন্য উৎপাদন হয়, বাবা তা বাজারে বিক্রি করে তাও আবার মাটির দামে।যা দিয়ে লেখাপড়ার খরচ সহ সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। আমাদের জন্য কি আর পুজা? আদী পেশা তাই বাবা কামড়িয়ে ধরে আছে। সরকার যদি নজর দিত তাহলে হয়ত আদী পেষা হারাতে হত না। ডুমুরিয়ার শংকর পাল,চিংড়ার শ্যামল,মলমলিয়ার অনিল পাল,নিখিল পাল সহ অনেকে জানান ইতি মধ্যে তারা এ পেশা ছেড়ে বাদাম ,বুট,গুড়,দোকান সহ বিভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছে।মেটে পাত্রের ব্যবহার যে কত উপকারী তা কেউ বুঝতে চায় না। তাইক্ষুদার তাড়নায় ছুটতে হয়েছে অন্য পেশায়।আমাদের কথা তো কেউ ভাবে না। লিখে আর কি হবে। সরকার ও সামাজিক সদিচ্ছাই কেবলমাত্র বাচিয়ে রাখতে পারে হাজার বছরের এ শিল্পটি।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD