বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
শৈলকুপায় জমি নিয়ে বিরোধ সংঘর্ষে ১৫ জন আহত নওগাঁর আত্রাইয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় সুজানগরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা পাইকগাছায় জোড় পূর্বক গৃহবধূকে ধর্ষনের চেষ্টা;গণ পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ পাইকগাছায় নার্সারীতে জোড় কলম তৈরীতে ব্যাস্ত সময় পার করছে শ্রমিকরা সুজানগরে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে আ’লীগের আলোচনা সভা ও র‌্যালী পঞ্চগড়ে কাঁচা চা পাতার ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সভা ময়মনসিংহ জেলায় শ্রেষ্ঠ এসিল্যান্ড জিন্নাত শহীদ পিংকি শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছেন বলেই দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে-ত্রিশালে নয়ন
সাংবাদিক বাচ্চুকে হকার বলে কেন এতো অসম্মান!! আসুন সকলে ঐক্যবদ্ধ হই। নিজেদের সম্মান বাঁচাই।

সাংবাদিক বাচ্চুকে হকার বলে কেন এতো অসম্মান!! আসুন সকলে ঐক্যবদ্ধ হই। নিজেদের সম্মান বাঁচাই।

মন্তব্য প্রতিবেদন : সম্প্রতি সময়ে বরিশালে পেশাদার কিংবা অপেশাদার কিংবা কথিত সাংবাদিক যাচাই বলিনা কেন সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন কিংবা হয়রানীর মাত্রা চরম ভাবে বেড়ে গেছে। যারা অন্যায় করবে কিংবা অপরাধ করবে তাদের বিচার হোক এটা আমরা চাই। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা কিংবা প্রভাবশালী ও পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আজ সাংবাদিকরা নানান ভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। নারী ঘটিত একটি ঘটনায় সম্প্রতি উজিরপুরের সাংবাদিক মো : জহিরকে ধর্ষন মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এমনকি ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল খাটছে জহির। জহিরের গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে বরিশালের সাংবাদিক মহলসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুললেও জেলের ঘানি টানা থেকে এখনো রেহাই মেলেনি। এছাড়া জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর গৌরনদী প্রতিনিধি সাংবাদিক মো : জহিরুল হক জহিরকে হয়রানী করতে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। উজিরপুরের অপর সাংবাদিক সাকিল মাহামুদ বাচ্চুকে একটি মামলায় গতকাল রোববার সকালে গ্রেফতার করা হলো। আমাদের জানামতে উজিরপুরের সাংবাদিক মো : জহির পুলিশসহ স্থানীয় রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেছে। জহির ও তার সহকর্মিদের অভিযোগ সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই জহিরকে একটি মহল ওই তর্বনীকে দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। এছাড়া প্রথম আলোর গৌরনদী প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক মো : জহির উদ্দীন জহির ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেছেন। পুলিশও বাদ যায়নি জহিরের লেখনি থেকে। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের কারনেই জহিরউদ্দীন জহিরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে জানান মামলার শিকার মো : জহির উাদ্দন। অপরদিকে উজিরপুরের অপর সাংবাদিক সাকিল মাহামুদ বাচ্চু সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেকটাই আপোষহীন নীতিতে রয়েছে। সংবাদের ক্ষেত্রে সে কাউকেই ছাড়েনি। এ কারনে সাংবাদিক বাচ্চু পুলিশ, রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালীর কাছে ছিলো আতংক হিসেবে । এ কারনে তাকে দমাতে বিভিন্নভাবে শুরু হয় নানান ষড়যন্ত্র। এসব কারনে সাংবাদিক বাচ্চু তার অনেক সহকর্মিদের কাছেও অপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো। স্থানীয় অনেক রাজনীতিবিদ পুলিশসহ অনেকেই তাকে সাংবাদিক হিসেবে মানতে চান না। কারন এক সময়ে সে হকার ছিলো। পাশাপাশি ছিলো তার ভাংঙ্গারী ব্যাবসা। লেখাপড়া জানা নেই বললেই চলে। এখনো ভাংগারি ব্যাবসা ছাড়তে পারেনি। কি করেই বা ছাড়বে। তারতো সংসার আছে, ছেলে সন্তান রয়েছে। এদের ভরন পোষনের জন্য তো টাকা দরকার। এক সময়ে বাচুচ জাতীয় দৈনিক সমকালের উজিরপুর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় কাজ করেছে। বর্তমানে একটি স্থানীয় পত্রিকায় কর্মরত আছে। পত্রিকা থেকে কোন সম্মানী না পেলেও মাস শেষে পত্রিকার বিল বাবদ তাকে ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হয় পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে। তাই পুরানো ভাংঙ্গারী ব্যাবসার মাধ্যমে সংসার চালানো ও পত্রিকার বিল মেটাতে হয় তাকে। অনেকেই তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে হকার বলে সম্মোধন করে মুচকি হাসেন। আবার সাংঘাতিক বলতেও ভুল করেন না। বাচ্চু একজন হকার হোক আর স্ব-শিক্ষিত মূর্খ হোক,লেখালেখিতে কিন’ মুর্খ নন। এ পেশায় অনেক এম এ পাশকেও ছাড়িয়ে গেছে বাচ্চু। সে অশিক্ষিত ও মূর্খ সাংবাদিক হতে পারে কিন্তু সে পাথরে লিখতে লিখতে কাগজে লেখায়ও পারদর্শী হয়েছে। অনেকে বলবেন আমি এম এ পাশ কিংবা আইন পাশ করে কেন সাকিল মাহামুদ বাচ্চুর মতো স্ব-শিক্ষিত মূর্খের পক্ষে কথা বলছি।হয়তো আমি নিজেও এর উত্তর দিতে পারবো না। কারন আমি উচ্চ-শিক্ষত সাংবাদিক, অশিক্ষিত হকার সাংবাদিক বাচ্চুর পক্ষে কথা বলা আমার মানায় না। এর পরও আমি তার পক্ষে কথা বলবো। কারন আমি তার সহকর্মি হিসেবে অনেক কাছ থেকে দেখেছি। আমরা অনেকেই চরম খুশি হয়েছি বাচ্চু গ্রেফতার হওয়ার পর। তার গ্রেফতার হওয়ার ছবি দেখে আমরা অনেকে পিছন থেকে হাত তালি দিচ্ছি কিংবা হয়রানীকারীদের সাথে আতাত করছি। তবে হাস্যকর বিষয় হলো যে মামলায় বাচুচকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিলো ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছে। প্রতি তারিখেই সে হাজিরা দিচ্ছে। বিষয়টি বলার পরও দুদক তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করে হাতকড়া পড়িয়ে চোর ডাকাতের মতো টেনে হিচড়ে গাড়িতে তোলে। শুধু তাই নয়, সাংবাদিক বাচ্চুর ভাষ্য মতে থানায় নিয়ে তাকে জুতা পেটা করে লাঞ্চিত করা হয়েছে। থানা থেকে পুলিশের ভ্যানে তুলে সিটে বসতে দেওয়া হয়নি। তার স্থান হয়েছে গাড়ির পাটাতনে ময়লা আবর্জনার উপর। এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আমার প্রশ্ন হাইকোর্টের জামিনে থেকে ও নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার পরও দুদক কেন বাচ্চুকে গ্রেফতার করলো। বাচ্চু জামিনে থাকার বিষয়টি দুদক অফিসারদের বলার বলার পরও কেন গ্রেফতার করা হলো। গ্রেফতারের পর হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে কেনইবা লাঞ্চিত করা হলো। থানা পুলিশ কেনইবা বাচ্চুকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিলো। কেনইবার পুলিশ ভ্যানের সিটে স্থান না হয়ে পাটাতনের ময়লার উপর বসার জায়গা হলো বাচ্চুর। একজন সাংবাদিকের সাথে এমন আচারনেই বলে দেয় বাচ্চুকে কার ইশারায় এবং কেন গ্রেফতার করা হলো। এতো কিছুর পরও আমরা আমাদের বিপৰেই রয়েছি। আমরাই যে আমাদের পাতানো জালে আটকা পরছি তা নিজেরাই বুঝতে পারছি না। আজ বাচ্চু, কাল আমি কিংবা আপনিও বাচ্চুর কাতারে সামিল হতে পারেন। এ বিষয়টি আমাদের ভেবে দেখা দরকার। আমি দেখেছি বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকের সম্পর্ক অনেক সময় দা কুমড়ার মতো হয়ে থাকে। কিন্তু তাই বলে আমরা কাউকে সায়েস্তা করতে যা মুখে আসে কিংবা মন চায় তা পত্রিকায় লিখে দিবো তা কিন্তু ঠিক নয়। অবশ্য আজকাল এমন লেখা-লেখির প্রবনতা চরম ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য আমরাই দ্বায়ী। কারন জীবনে এক অক্ষর কোন পত্রিকায় লিখেন নি, কিংবা লিখতে পারেন না কিংবা লেখার যোগ্যতা নেই এমন অনেকেই আজ বরিশালের বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক-সম্পাদক কিংবা প্রকাশক হয়েছেন। এমন বায়োডাটা যদি পত্রিকা কর্তৃপক্ষের থাকে সেই পত্রিকায় অনেক কিছুই আমরা লিখতে পারি বা লেখা হয়ে থাকতে পারে। আবার আমি পুলিশ কিংবা প্রশাসনের লোক, আমার হাতে আইন আছে, তাই সাংবাদিককে সাইজ করতে উঠে পরে লেগে যাবো তাও ঠিক নয়। যদিও এমন ঘটনা এখন অহরহ ঘটছে বলে বিভিন্ন ভাবে প্রতিয়মান হচ্ছে। তবে আমাদের সকলকেই আমাদের নিজেদের দ্বায়িত্ববোধ ও কাজের পরিধির বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার। এ বিষয়টি সাংবাদিক নেতা ও প্রশাসনের উচ্চ মহলকে ভেবে দেখার সময় এসেছে। নিজের অস্বিত্ব টিকিয়ে রাখার সময় এসেছে। তাই আসুন পেশাদার সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হই, নিজেদের সম্মান বাচাই।

।।সম্পাদক,নিকুঞ্জ বালা পলাশ।।।
সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক সাহসী বার্তা।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD