সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
পেশাগত দক্ষতা অর্জন ব্যতীত প্রকৃত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। ইঞ্জিঃ মোঃ আতিকুর রহমান,ICT4E এ্যাম্বাসেডর,বগুড়া । পানছড়িতে নবাগত ইউএনও’র সাথে মৎস্যজীবীলীগের সৌজন্য সাক্ষাত ময়মনসিংহ নগরীকে নিরাপদ রাখতে পুলিশের রাত্রিকালীন অভিযান।। ময়মনসিংহে ওজনে কম দেওয়ায় সওদাগর ফিলিং স্টেশনকে ১লক্ষ টাকা জরিমানা।। কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র ডিমলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কর্তন ১১ ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তি ঝিনাইদহ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট উত্তপ্ত হুমকিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ অপরিকল্পিত কীটনাশক ও সার ব্যবহার। নওগাঁর আত্রাইয়ে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত নড়াইলে ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ও গাজাঁসহ গ্রেফতার ৪
প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বিলুপ্তির পথে ইসলামপুরের কাঁসাশিল্প

প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বিলুপ্তির পথে ইসলামপুরের কাঁসাশিল্প


সৈকত আহমেদ বেলাল, জামালপুর প্রতিনিধি ঃ
প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী জামালপুরের ইসলামপুর কাঁসাশিল্প। এ শিল্প রৰায় সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা না থাকায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এক সময়ের বিশ্বখ্যাত কাঁসাশিল্পকে বাচাঁতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন বলে জানান সংশিৱষ্টরা।
জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর আগে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী ইসলামপুরের কয়েকজন কাঁসারীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছিল কাঁসাপলৱী। তাদের নিপুঁণ হাতে তৈরি কার্বকার্যপূর্ণ কাঁসার বাসন-কুসন ভারতীয় উপমহাদেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বজয় করেছিল। ১৯৪২ সালে বৃটিশ সরকার আয়োজিত বার্মিংহাম হস্তশিল্প প্রর্দশনীতে বিশ্বের সেরা হস্তশিল্পের খ্যাতি অর্জন করে এ শিল্পটি। ওই প্রর্দশনীতে কাঁসা কর্মকারদের কাঁসাশিল্পী উপাধি দেয়া হয়। প্রর্দশনীতে জগৎ চন্দ্র কর্মকার নামের এক কাঁসাশিল্পী স্বর্ণপদক লাভ করেছিল। এতে ইসলামপুর কাঁসাশিল্পের বিশ্বদরবারে ব্যাপক প্রসার ঘটে। ওই সময় বিয়ে বা যে কোন অনুষ্ঠানে কাঁসার বাসনই ছিল প্রধান উপহার সামগ্রী। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাঁসার বাসন ছাড়া কোন অনুষ্ঠানই হতো না। জনশ্র্বতি রয়েছে, ইসলামপুরের কাঁসারীদের তৈরি তলোয়ার ভারত মহাযুদ্ধেও ব্যবহৃত হতো।
কাঁসা শিল্পীরা জানান, কাঁসা হলো একটি মিশ্র ধাতব পদার্থ। তামার সাাথে টিনএ্যাংগট মিশিয়ে আগুনে পোড়ালে কাঁসা তৈরি হয়। এছাড়া তামা, দস্তা, রাং বা অন্যান্য ধাতব পদার্থ মিশ্রণের উপর নির্ভর করে পণ্যের স’ায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও উজ্জ্বলতা। কাঁচামালের দূর্মূল্য ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে শিল্পীদের কাজে অনীহার সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমান বাজারে পৱাস্টিক, স্টীল, মেলামাইন, কাঁচ ও স্বল্পমূল্যের নানা সামগ্রীর কারণে কাঁসার তৈরি কাস্তেশ্বরী, রাজভোগী, রাঁধাকান্তি, বংগী, বেতমুড়ি, চায়নিজ, মালাথাল, দরাজ, রাজেশ্বরী, রত্মবিলাস, গুটা, কলতুলা, কৃষ্ণচুড়া, ময়ুরকণ্ঠি, বকঠুট, ময়ুর আঁধার, মলিৱকা, সাদাবাটি, কাংরিবাটি, বোলবাটি, রাজভোগী, রাঁধেশ্বরী, জলতরঙ্গ, রামভোগী, গোলবাটি, কাজলবাটি, ঝিনাইবাটি, ফুলতুলি বাটি, মালাবাটি, বোয়ালমুখী, হাতা, চন্দ্রমুখী, চাপিলামুখী, পঞ্চমুখী, কবুতরবুটি, ঝিনাইমুখী, পূজা-অর্চনার জন্য মঙ্গল প্রদীপ, কোসাকুর্ষি, মঙ্গলঘাট ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজার প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে হারিয়ে যেতে বসেছে।
ইসলামপুর কাঁসাশিল্প সমিতির সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র কর্মকার জানান, কাঁসার উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচও বেশি হচ্ছে। ফলে কাঁসার পরিবর্তে ক্রেতারা কমমূল্যে অন্যান্য সামগ্রীর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। এতে শিল্পীদের বাজার অনুযায়ী বেতন দেয়া সম্ভব হয় না। তাই তারা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই শিল্পটিও মসলিন শিল্পের মতো বিলীন হয়ে যাবে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর অঙ্কন চন্দ্র কর্মকার জানান, কাঁসাশিল্পের ঐতিহ্য পুনর্বদ্ধারে সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত টিনএ্যাংগট ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিসহ সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস’া করা প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD