শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২৪ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
তানোরে সুজনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ মুন্সীগঞ্জ‌ে টঙ্গীবাড়ী‌র ধীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক গভীর এবং কালের বিবর্তনে উত্তীর্ণঃ নৌ প্রতিমন্ত্রী কাহালু এক নারীর বেপরয়া জীবন যাপনে অতিষ্ট গ্রামবাসী কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার পঞ্চগড়ে ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু কেশবপুরে কুকুরের কামড়ে ১৩শিশুসহ ২৫ জন আহত প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্য বাড়ছে গজারিয়া চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলম সাহেবের শশুরের কুলখানি। নড়াইল পৌরবাসী সামান্য বৃষ্টিতে নাকাল জল জন্তনায় ধামইরহাটে ২টি ভাঙ্গা কালভার্ট দ্রুত মেরামত করা জরুরি
ট্রাফিক আইন মানছে না কেউ-সড়ক দূর্ঘটনা বাড়ছে!

ট্রাফিক আইন মানছে না কেউ-সড়ক দূর্ঘটনা বাড়ছে!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে রোডে, মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। বেশিরভাগ গাড়ির চালক ট্রাফিক আইন মানছে না। চালকরা নিয়ম না মেনে গাড়ি সিংগেল লাইনকে ডবল লাইন করে নেয় এমনকি অপর প্রান্তের গাড়ি যাবার রাস্তাটুকু রাখে না, সৃষ্টি হয় যানজট। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফ্লাইওভার ব্রীজ থাকলেও সেদিকে খেয়াল নেই পথচারীদের। মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে দেখা যায়। নিয়ম ভঙ্গের প্রতিকারে নিয়োজিত যে ট্রাফিক পুলিশ তাদেরও দেখা যায়, অনেক সময় ফুটওভার ব্রীজ ও জেব্রাক্রসিং বাদ দিয়ে আর দশজনের মতোই নিয়ম ভেঙে রাস্তা পারাপার হন। “ট্রাফিক আইন মানছেন না কেউ”।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল্লাপুর-বাইপাইল সড়কের আশুলিয়ার জামগড়ায় দুইটি গাড়ি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, এ সময় দুইজ চালক ও হেলপারসহ ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পথচারীরা জানান, গাড়ীর চালক নেশা করা অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে। লড়ি কাভারভ্যান চট্র-মেট্রো- ঢ-৮১-০৫৪২ ও চট্র মেট্রো- ঢ- ৮১-২০৩৮ নং গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে করছেন অনেকেই। লোকজন বলছেন, একই এলাকার গাড়ী মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়াটা রহস্যজনক বলে তাদের ধারণা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও ফ্লাইওভার ব্রীজ ও ঢাকার সাভার জোন এলাকার আশুলিয়ার ডিইপিজেড ওভারব্রীজের নিচ দিয়ে পথচারীরা চলাচল করছে তাদের খেয়াল খুশিমত। এসব এলাকায় যানজটও দেখা যায় চোখে পড়ার মতো। সেই সাথে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছে এক শ্রেণীর লোকজন। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষগুলো নাকে মুখে কাপড় বা হাত দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। বিশেষ করে ফ্লাইওভার থেকে সাঁ সাঁ করে নামছে দ্রুতগামী বিভিন্ন পরিবহন, উঠছেও সমান তালে। “সারাদেশেই এমন ঘটনা ঘটছে, মাথার ওপরেই ফুটওভার ব্রীজ, কয়েক গজ দুরে রয়েছে জেব্রাক্রসিং তবুও উঁচু সড়ক বিভাজক ডিঙিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে আড়াআড়ি করে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই।

বিশেষ করে, এ নিয়ম ভঙ্গের প্রতিকারে নিয়োজিত যে ট্রাফিক পুলিশ তাদের অনেক সদস্যকে দেখা যায়, ফুটওভার ব্রীজ ও জেব্রাক্রসিং বাদ দিয়ে আর দশজনের মতোই নিয়ম ভেঙে রাস্তা পারাপার হন, সকাল থেকে দুপুর, কয়েক ঘন্টা অবস্থান করে দেখা গেলো, আশুলিয়া থেকে বাইপাইল হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত যে কয়েকটি ওভার ব্রীজ আছে সব ব্রীজেই প্রায় একই রকম চিত্র, বেশিরভাগ পথচারীরা ওভার ব্রীজ দিয়ে পরাপার হন না। অন্যদিকে রাজধানীর খিলগাঁও ফ্লাইওভারের বাসাবো প্রান্ত সংলগ্ন ও মহাসড়ক লাগানো বাসাবো জামে মসজিদের পাশ দিয়ে একটি গলি মহসড়কে মিশেছে। ব্যস্ত এ গলি দিয়ে ওই এলাকায় বসবাসরত লোকজন মহাসড়কে প্রবেশ করেন। দেশের ৬৪ জেলা ও উপজেলার থেকে আসা প্রায় এক কোটির ও বেশি মানুষ রাজধানীতে কর্মমুখী।

দেখা যায়,শাহজাহানপুর, রাজারবাগ, কমলাপুরগামীদের রাস্তা পারাপারের সুবিধার্থে গলির ঠিক মুখেই নির্মিত হয়েছে ফুটওভার ব্রীজ কিন্তু রাস্তা পারাপারের সময় প্রায় ৮০ শতাংশ লোকই সেই ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার করছেন না। পারাপার প্রতিরোধী ধাতু নির্মিত উঁচু দেয়াল তুলে ফেলায় এবং সড়ক বিভাজক অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় লোকজন নিয়ম ভেঙে নিচ দিয়ে রাস্তা ক্রস করতেই উৎসাহী হয়ে উঠছেন বলে অনেকেই জানান। ফ্লাইওভারের এ প্রান্তে কোনো সিগন্যাল নেই। তাই পরিবহনগুলোর এখানে থামার প্রয়োজনও হয় না বলে জানান চালকেরা। কিন্তু বাঁধাহীনভাবে লোকজনের চলাচলের কারণে বাধ্য হয়েই থামতে হচ্ছে অথবা গতি কমিয়ে দিতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো ফ্লাইওভারে।

জানা যায়, যানবাহনের চাপ বেশি থাকলে এ চাপেই অনেক সময় ফ্লাইওভারের ওপরে তৈরি হয় যানবাহনের লম্বা লাইন। এভাবে রাস্তা পারাপার হওয়ায় যানজটের চেয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাই বেশি। কারণ, ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় পরিবহনগুলোর গতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। গতিশীল যানবাহনের সামনে দিয়ে এভাবে অবাধ চলাচলের ফলে যেকোনো সময়ই ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা এমনকি ঘটছেও অনেক দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন দোকানিও জানালেন তেমনটিই। তারা বলেন, এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ফুটওভার ব্রীজ থাকার পরেও নিচ দিয়ে রাস্তা ক্রস করার কারণ জানতে চাইলে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বেশিরভাগই সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এড়িয়ে গেছেন।
তারপরেও অন্তত ১৫ জন নিজের ভুল স্বীকার করে তারা বলেন, ‘আজই প্রথম’ রাস্তা ক্রস করেছেন তারা। তবে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি কেউই। ব্রীজের নিচ দিয়ে রাস্তা ক্রস করার কারণ জানতে চাইলে পেশায় ব্যবসায়ী আজাদ (৪০) বলেন, ‘আমি যখন নিচ দিয়ে পার হচ্ছিলাম, তখনই আমার বিবেকে বাঁদছিল। তারপরেও কিন্তু ভুলটা হয়ে গেছে আমার। ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না। কলেজ পড়–য়া এক ছাত্রী বলেন,‘সবাই ক্রস করেন, তাই আমিও করলাম। চাকরিজীবী একজন নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, আসলে শরীরটা খারাপ হওয়ায় নিচ দিয়ে রাস্তা ক্রস করছি। এটা হয়ত আমার উচিৎ হয়নি। তবে নিচ দিয়ে রাস্তা ক্রসিংয়ের সুযোগ বন্ধ করে দিলে জনগণ বাধ্য হয়েই ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার করতো বলে মন্তব্য করেন সে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,৭ বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই যখন নিয়ম ভেঙে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা ক্রস করছিলেন, তাদের মধ্যে একজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকেও দেখা গেছে। তিনি অনুরোধ করে বলেন, তার নামটা যেন পত্রিকায় না দেয়া হয়। তার নিয়ম ভঙ্গের বিষয়টি স্বীকার করে সে বলেন, শরীরটা ভালো না, তাই নিচের রাস্তা ক্রস করেছি, ভাই আমার বিরুদ্ধে কিছু লিখেন না। তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে এক দুইজন মাথায় বোঝা এবং হাতে ভারি ব্যাগ থাকা সত্ত্বেও ওভার ব্রীজ দিয়ে পার হচ্ছিলো। কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, ট্রাফিক পুলিশের কিছু কর্মকর্তা ও সদস্য তাদের দালাল দিয়ে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা নিতেই ব্যস্ত থাকেন তারা এবং কেউ কেউ চা সিগারেটের দোকানে ও হোটেলে সময় পাড় করেন। এর কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে স্থানীয়রা জানান, রাস্তার পাশে সরকারী জায়গা জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে হকারদের দখলে রেখেছে।

ভিন্ন চিত্র দেখা যায় ব্যস্ততম রাস্তার দুপাশে হকাররা জমজমাটভাবে ব্যবসা করছে। কোনো ভাবেই ট্রাফিক আইন মানছে না কেউ। ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা চাঁদাবাজি করি না কিন্তু শিল্প এলাকা সাভার আশুলিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে সকালে এবং বিকাল ৫টার দিকে যানজটের সৃষ্টি হয়। এর কারণ হলো, শিল্প কারখানা ছুটির পরে বাসায় যাওয়ার সময় হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় এলোমেলো ভাবে চলাচল করে আর ফুটওভার ব্রীজও তারা ব্যবহার করেন না অনেকেই ।
উক্ত ব্যাপারে ঢাকার সাভার জোন ট্রাফিক পুলিশের (টিআই) সেকেন্দার আলী জানান, সচেতন নয় অটো রিক্সা চালকরা, এরা এলোমেলো ভাবে রাস্তায় গাড়ি চালায় বলে যানজট সৃষ্টি হয়। আর যানবাহনের চালকরা অনেকেই নেশা করে গাড়ি চালায় এবং অসাবধানতার কারণে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে। আজ ১৭-০৭-২০১৮ ইং ভোর ৩টার দিকে উক্ত দুইুট গাড়ি মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই গাড়ির চালক ও হেলপারসহ ৪জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর কারণে জামগড়া রোডে প্রায় ৬ ঘন্টা যানজট ছিলো।

নতুনবাজার/হেলাল শেখ

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD