বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ওসি কামালের নেতৃত্বে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার-১৩ জাতীয় তরুণ পার্টি ফুলবাড়িয়া পৌর শাখার আহবায়ক কমিটির অনুমোদন।। কেন্দুয়ায় ধানের পোকা চিহ্নিত করতে ‘আলোক ফাঁদ’ স্থাপন হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতু নির্মাণের দাবীতে বিশাল মানব বন্ধন ও জনসভা ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির জানাজায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অমিত তারাকান্দায় ৫৩ পূজামন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস -ইউএনও’র।। ঝিনাইদহে অফিসিয়ালি তদারকি ছাড়া ৮৮ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ হচ্ছে! নড়াইলে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত নাচোলে তাল গাছের বীজ বপন মহাসংকটে স্বরূপকাঠি সমিতি
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাখো মানুষের যমুনা পার

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাখো মানুষের যমুনা পার

বগুড়া প্রতিনিধি মোত্তালিব সরকারঃ কাজিপুর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের বাস যমুনার চরাঞ্চলে। রোজকার কাজে তাদের ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার যমুনা নদী পাড়ি হতে হয়। দিনের পর দিন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা ও জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের জন্য নদী পার হচ্ছেন।

কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া, খাসরাজবাড়ী, মনসুরনগর, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, শুভগাছা, চরগিরিশ ইউনিয়ন এবং মাইজবাড়ী ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম পুরোপুরি যমুনা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল। এ সব এলাকার মানুষের দৈনন্দিন কাজ বা চিকিৎসার জন্য যেতে হয় জেলা ও উপজেলা সদরে। জেলা উপজেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র বাহন হচ্ছে ইঞ্জিন চালিত নৌকা। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুসহ নারী-পুরুষ, এমনকি গবাদি পশু এবং নানা প্রকার পণ্য-সামগ্রী সবই ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পারাপার করতে হয়। বৃষ্টি, ঝড় তুফানের মধ্যেও প্রতিদিনই দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গম চরাঞ্চলে নাটুয়ারপাড়া ও মেঘাই ঘাঁট হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে উপজেলা ও জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ করতে হয়। কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন করে থাকে এসব শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকাগুলো। এছাড়া মালামাল বহনে ও এগুলোই ভরসা।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এসব নৌকায় নেই কোন বসার ব্যবস্থা, ছই কিংবা লাইফ জ্যাকেট। দূর্গম চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়ার একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় মৃত্যুর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও চরাঞ্চলের মানুষকে বাধ্য হয়ে এসব নৌযানে চলাচল করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ী ছাড়াও প্রতিদিন সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এমনকি সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিরাপত্তাহীনভাবে যমুনার পার হন।

এসব চরের মানুষ অসুস্থ্য হলে উপজেলা কিংবা জেলা শহরে যাতায়াতের জন্যে এসব নৌকায় পাড়ি দিতে হয়। এলাকাবাসি ও যাত্রীরা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন শত শত যাত্রী যাতায়াত করে নাটুয়ারপাড়া ও মেঘাই নৌকা ঘাট দিয়ে। ঘাট কর্তৃপক্ষ নৌকা পরাপারে জনপ্রতি ভাড়া নেন ২৫ টাকা। আর ১০ কেজির বেশি মালামাল নিলেই তার জন্যে আলাদা ভাড়া দিতে হয়। অথচ তাদের যাত্রী সেবার মান বাড়াতে কোন উদ্যোগ নেই না।

উপজেলা পরিষদ নাটুয়ারপাড়া ঘাটে একটা যাত্রী ছাউনি তৈরি করেছে। কিন্তু তাতে যাত্রীদের তেমন কোন সুবিধা হয়নি। আর নৌঘাটে নেই টয়লেট, বসার ব্যবস্থা। সরকারীভাবে একটি পল্টুন থাকলেও সেখানে একটির বেশি নৌকা লাগানো সম্ভব নয়। ফলে প্রায়ই যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ সিঁড়ি দিয়ে, পানি বা বালির মধ্যে লাফিয়ে নামতে হয়। এতে করে শিশু, বৃদ্ধদের চরম কষ্ট সহ্য করতে হয়। সাইকেল, মোটসাইকেল ও মালামাল নৌকায় উঠানোর জন্য নেই ভালো ব্যবস্থা।
সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়, রোগী ও গর্ভবতী মায়েদের উপজেলা বা জেলা হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে।

যমুনা পার হয়ে চরের স্কুলে শিক্ষকতা করেন শফিকুল ইসলাম, শামসুল আলম, রেদওয়ান ও সাইফুদ্দিন। তারা জানান, আমরা প্রতিদিন প্রায় এপার থেকে ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষক নিয়মিত নৌকা ঘাট দিয়ে চলাচল করি। কিন্তু নৌকা ঘাটে ন্যূনতম যাত্রীসেবা নেই। নৌকার নির্ধারিত যাত্রী না হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ঘাট থেকে অন্তত দুইশত ফুট দূরে ছোট্ট একটা অপেক্ষমান কক্ষ থাকলেও সেখানে রিক্সা ও ভটভটি, ভাড়ায় মোটসাইকেল, অটো রিক্সা চালকরা বসে আড্ডা দেয়। অথচ ঘাট কর্তৃপক্ষের এদিকে কোন খেয়াল নেই।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া দেখা দিলেও অনেক সময় যাত্রী ও মলামালসহ নৌকাগুলো ডুবে গিয়ে এ পর্যন্ত অনেক যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী মালামাল হারিয়ে পথে বসেছেন। নাটুয়ারপাড়া ঘাট মালিক সমিতির সভাপতি ওমর আলী জানান, ঘাটগুলো প্রায়ই নানাস্থানে সরিয়ে নিতে হয় বলে যাত্রীদের সুযোগ সুবিধার জন্যে তেমন কোন স্থায়ী ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়না। তবে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল মান্নান চাঁন জানান, আমরা কাজিপুরের চরাঞ্চল বাসী, প্রশাসনের কাছে বারবারই দাবি করেছি চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যোগাযোগের ব্যবস্থা করার জন্য। আশা করি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নজর দেবেন ।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD