সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
হরিপুরে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ ময়মনসিংহে কোতোয়ালী পুলিশের অভিযানে এলজি, টিভি,ল্যাপটপ,হাতঘড়িসহ তিন চোর আটক।। মানুষকে বিবস্ত্র ও হয়রানি না করতে ময়মনসিংহে হিজরাদের প্রতি ওসি কামালের আহবান। পেশাগত দক্ষতা অর্জন ব্যতীত প্রকৃত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। ইঞ্জিঃ মোঃ আতিকুর রহমান,ICT4E এ্যাম্বাসেডর,বগুড়া । পানছড়িতে নবাগত ইউএনও’র সাথে মৎস্যজীবীলীগের সৌজন্য সাক্ষাত ময়মনসিংহ নগরীকে নিরাপদ রাখতে পুলিশের রাত্রিকালীন অভিযান।। ময়মনসিংহে ওজনে কম দেওয়ায় সওদাগর ফিলিং স্টেশনকে ১লক্ষ টাকা জরিমানা।। কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র ডিমলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ কর্তন ১১ ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তি ঝিনাইদহ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট উত্তপ্ত
জামালপুরের ইসলামপুরে বন্যা আতঙ্কে সাপধরীর ২৫ হাজার মানুষ

জামালপুরের ইসলামপুরে বন্যা আতঙ্কে সাপধরীর ২৫ হাজার মানুষ

সৈকত আহমেদ বেলাল, জামালপুর প্রতিনিধি : যমুনার পানি বাড়ায় নৌ-ডাকাতি, চুরি ও আশ্রয়হীনতার জন্য চরম আতঙ্ক শুর্ব হয়েছে সাপধরীর মানুষের মধ্যে। জামালপুরের ইসলামপুরের অবহেলিত একটি ইউনিয়নের নাম সাপধরী। বন্যা শুর্ব হলে পানিতে ভাসতে থাকে পুরো ইউনিয়নের মানচিত্র। কোন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় বন্যা আসলেই এ ইউনিয়নের ১৭ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করে। এসব মানুষ যুগযুগ ধরে শিৰা-চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ইউনিয়নটি উপজেলার মূল ভূখন্ড থেকে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন একটি চরাঞ্চল। নদীর ভাঙ্গাগড়ার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন স’ানে আশ্রয় নিয়ে যাযাবর জীবন কাটান। নদীভাঙনে এ ইউনিয়নের শত শত বিঘা জমির মালিক পথে বসেছে ।
প্রায় ২৫ বছর আগে রাৰুসী যমুনা উপজেলার মূল ভূখন্ড থেকে সাপধরীকে আলাদা করে রেখেছে। উপজেলা থেকে এর দুরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। ইউনিয়নটির মানুষ সারা বছর নৌকায় যাতায়াত করলেও বন্যার সময় বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় চরম আশ্রয় সঙ্কটে পড়তে হয়। ইউনিয়নটিতে এক ইঞ্চি পাকা রাস্তা নেই। এক-দুই কিলোমিটার কাঁচারাস্তা থাকলেও বন্যার পানিতে তলিয়ে ভেঙ্গে যায় প্রতিবছর। ফলে শুকনো মওসুমে পায়ে হেঁটেও চলাচলের উপায় থাকে না। কৃষি ও মাছ ধরা এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। শুকনো মওসুমে যমুনার বুকে জেগে উঠা চরে চিনাবাদাম, কাউন, ভুট্টা, মরিচ, চিনা, গম, যব, পিয়াঁজ চাষ এবং বর্ষায় মাছ ধরা তাদের প্রধান পেশা।
যমুনার পানি বাড়লেই সাপধরী ইউনিয়নের পুরো জনপদ জলমগ্ন হয়ে সাগরে রূপ নেয়। কোন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় বর্ষা মওসুমে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। তারা আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে যায় বাঁধ, সড়ক ও শিৰা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উচুঁ স’ানে। কেউ কেউ ঘরের চালে মাঁচা করে অনাহারে-অর্ধাহারে কাটিয়ে দেয় বন্যা পুরো সময়। এ সময় নৌ-ডাকাতি ও গর্ব চুরিসহ নানা অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় এ অঞ্চলের মানুষদের। প্রতি বছর বন্যা ও নদীভাঙনের সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকাই তাদের নিত্য নৈমিতিক ব্যাপার।
স্বাস’্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন উপস্বাস’ কেন্দ্রটি প্রায় ১০ বছর এবং পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকটি তিন বছর আগে নদীতে বিলীন হয়েছে। ফলে প্রাথমিক স্বাস’্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ।
চেঙ্গানিয়ার মোরাদুজ্জামান জানান, কোন মানুষ অসুস’ হলে তাকে ঘাড়ে ও নৌকায় করে উপজেলা স্বাস’্য কমপেৱক্সে নিতে দিন পেরিয়ে যায়। যে কারণে প্রসুতি মা ও শিশুসহ অনেক মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। জর্বরী রোগী আনা-নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন যাবত এ অঞ্চলের মানুষ একটি স্প্রীড বোট (ওয়াটার এ্যাম্বুলেন্স) দাবি করে আসছে।
শিৰা বিভাগ সূত্র জানায়, সাপধরীতে ১১টি প্রাইমারি স্কুল, একটি হাইস্কুল এবং একটি দাখিল মাদরাসা রয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, প্রাইমারি স্কুলগুলোর বেশির ভাগ শিৰক ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, ইসলামপুর শহরে বসবাস করেন। তারা স্কুলে যান কালে-ভদ্রে। স্কুলগুলো চলছে পিয়ন ও প্রক্সি শিৰক দিয়ে। শিৰকরা মাস শেষে হাজিরা খাতায় স্বাৰর দিয়ে বেতন নিয়ে যান। এতে এ জনপদের হাজার হাজার শিশুরা শিৰা আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আনসার-ভিডিপি কমান্ডার জিলৱুর রহমান জানান, যমুনার দূর্গম চরাঞ্চল সাপধরী ইউনিয়নের মানুষ শিৰা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকে যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত হলেও কারও নজর নেই।
ইউপি সদস্য শেখ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম বিশরশি। কোন স্কুল-মাদরাসা তো নেই-ই। ইউনিয়নের মানচিত্রেও নাম নেই গ্রামটির। ওই গ্রামের কেউ অসুস’ হলে চিকিৎসার কোন উপায় থাকেনা। শিৰাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় প্রায় ৪ শতাধিক শিশু নিরৰরতায় বেড়ে উঠছে।
জানা যায়, সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদ কমপেৱক্সটি ২৪ বছর আগে নদীতে বিলীন হওয়ায় প্রায় দুই যুগ ধরে ওই ইউনিয়নের মানুষ স’ানীয় সরকারের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সাবেক চেয়ারম্যান (ভারঃ) আছাদুজ্জান জানান, একটি পরিচয়পত্র নিতে এ ইউনিয়নের মানুষদের বিভিন্ন স’ানে ঘুরতে ঘুরতে প্রায় ৫০০ টাকা ব্যয় হয়। ইউপি সচিব আক্রামুজ্জান লিটন জানান, নির্দিষ্ট অফিস না থাকায় চেয়ারম্যানের বেলগাছা ইউপির কাছিমার বাড়ি অস’ায়ী অফিস এবং উপজেলা সদরের সততা কম্পিউটার সেন্টারে অফিস করতে হয়।
চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন বলেন, অফিস সঙ্কটে তথ্য সেবা, গ্রাম আদালত, ভিজিডি ও ভিজিএফসহ সরকারের বিভিন্ন সেবা প্রদান করা কঠিন হচ্ছে। তিনি সাপধরীতে স’ানান্তর যোগ্য একটি আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ কমপেৱক্স নির্মাণের দাবি জানান।
ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনুজ্জামান জানান, বন্যা মওসুমে চরাঞ্চলের আইন শৃঙ্খলা রৰায় বেড়কুশা ও মন্নিয়ায় অস’ায়ী পুলিশ ক্যাম্প স’াপন করা হয়। এতে চরাঞ্চলের অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে যায়।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD