বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৭:১৪ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
বানারীপাড়ায় দুদিন ব্যাপী বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন বীরগঞ্জের নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা ও বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত-৭, থানায় একাধিক অভিযোগ আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আলম রাজিবকে অভিনন্দন নড়াইলে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার যুবক গ্রেপ্তার রাজারহাটে আনসার ভিডিপি’র উপজেলা সমাবেশ-২০২২ অনুষ্ঠিত ভারশোঁ ইউপির উথরাইল বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত নড়াইলে মাছের ঘেরে গাঁজা চাষ, আটক ২ নাচোলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ উপলক্ষে মতবিনিময় কেশবপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে ফাইনালে চাম্পিয়ান সুফলাকাটি ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পেট্রোলের আগুনে দুই বোনের মৃত্যুর ৫ বছর পার হলেও পাষন্ড স্বামীকে ধরতে পারেনি পুলিশ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পেট্রোলের আগুনে দুই বোনের মৃত্যুর ৫ বছর পার হলেও পাষন্ড স্বামীকে ধরতে পারেনি পুলিশ

শিমুল খান।।।

নিজস্ব প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় পেট্রোলের আগুনে দুই বোনের মৃত্যু ও ঝলসে যাওয়া অপর বোন মামলায় দীর্ঘ ৫ বছরেও মামলার প্রধান আসামী পাষন্ড স্বামীকে ধরতে পারেনি পুলিশ। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ছিল ২০১৪ সালের ২৮ মার্চ গভীর রাতে টুঙ্গিপাড়া পাকুড়তিয়া গ্রামে। এ ছাড়া আদালতে বার বার নারাজি দেওয়া সত্বেও মামলার প্রধান আসামী ছাড়া বাকী আসামীরা চার্জসিট থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে।
মামলার বিবরনে জানা যায়, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পাকুড়তিয়া গ্রামের আলতাব মোলৱার মেয়ে কুলসুমের (১৮) সাথে ফরিদপুর জেলার মৃত: সাত্তার মোলৱার ছেলে লুৎফার মোলৱা ওরফে মান্দারের সাথে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে তারা নিজেরা বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে এক পর্যায়ে স্ত্রী কুলসুম স্বামীকে ডিভোর্স দেয়। এতে স্বামী মান্দার মোলৱা স্ত্রীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের ভিতর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার দিন রাতে কুলসুম টুঙ্গিপাড়ায় বাবার বাড়ীতে ছোট বোন স্বর্ণা (৮) ও চাচাতো বোন সাথী (১২) সহ ৩ বোন একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। পাষন্ড স্বামী মান্দার মোলৱা ও তার সহযোগীদের সাথে নিয়ে ওই দিন গভীর রাতে ঘরের ভিতর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্বামী মান্দার মোলৱার পেট্রোলের আগুনে স্ত্রী কুলসুম ও তার ছোট বোন স্বর্না মৃত্যুবরণ করে। এ সময় চাচাত বোন সাথী ঝলসে গিয়ে গুর্বতর দগ্ধ হয়। মান্দার মোলৱার সহযোগীরা হলেন ফরিদপুর জেলার সালথা থানার চন্ডীবর্দী গ্রামের মনু শেখের ছেলে জামাল, সাত্তার মিয়ার ছেলে তারা মিয়া, মৃত: সাত্তার মোলৱার ছেলে নুর মোহাম্মদ মোলৱা ও ফার্বক মোলৱা। এছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানার পাকুড়তিয়া গ্রামের কেরামত কাজীর ছেলে র্ববেল কাজী, ছোবান শেখের ছেলে কবির শেখ, কামর্বল শেখের ছেলে সুমন শেখ ও তারাইল গ্রামের সুবল কর্মকারের ছেলে দেবদাস কর্মকার।
এ ব্যাপারে মো: আলতাব মোলৱা কন্যা হত্যার বিচারের দাবিতে টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৬।
উক্ত মামলায় এস আই মো: ইকরাম হোসেন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী মো: শুকুর আলী সরদার, অসীম বিশ্বাস, ফার্বক মোলৱা ও নুর মোহাম্মদ মোলৱাকে গ্রেফতার করে। এদের কাছ থেকে প্রধান আসামী লুৎফার মোলৱা ওরফে মান্দারের মোবাইল উদ্ধার করে। তদন্তকালে মোবাইল কল লিষ্ট যাচাই কালে প্রধান আসামী মান্দার মোলৱার সাথে ধৃত আসামীদের কথোপকথন হয়েছে। অথচ তিনি কর্মকর্তা ধৃত আসামীদের জবানবন্দী রেকর্ড করার কোন ব্যবস’া করেন নাই, তাদের মামলার কোন স্বাক্ষীও করেন নাই। এমনকি পেট্রোলের আগুনে ঝলসে বেঁচে যাওয়া অপর বোন সাথীর কোন জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়নি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার সঠিক তদন্ত না করে অপরাধীদের বির্বদ্ধে স্পষ্ট স্বাক্ষী প্রমান থাকা সত্বেও তাদেরকে বাদ দিয়ে শুধু মাত্র লুৎফর মোলৱা ওরফে মান্দারের বির্বদ্ধে চার্জ সিট দাখিল করেন। এতে অত্র মামলার এজাহারকারী ক্ষুব্ধ হয়ে নারাজী দাখিল করলে মামলাটি পূনরায় সিআইডিতে প্রেরিত হয়। সিআইডির প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ইফতেকার আলম আসামী জামাল এবং র্ববেলকে গ্রেফতার করেন। তদন্তে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আসামী র্ববেল কাজীর বাড়ীতে প্রধান আসামী মান্দারসহ অন্যান্যদের সহিত বৈঠক করার কথা স্বীকার করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা দীপক বাবু তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরে মামলার আসামীদের সাথে অবৈধ যোগাযোগের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা উৎকোচের বিনিময়ে হত্যা কান্ডের সহিত জড়িত আসামীদের বাদ দিয়ে পূর্বের ন্যায় একই রকমের চার্জ সিট দাখিল করে। এজাহারকারী ক্ষুব্ধ হয়ে নারাজী দাখিল করলে মামলাটি পূনরায় পিবিআইতে প্রেরিত হয়। পিবিআইতেও একই রকম চার্জ সিট দাখিল করায় এজাহারকারী পূনরায় নারাজী দাখিল করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এসপি সমমর্যাদা সম্পন্ন যে কোন আইন শৃঙ্খলা এজেন্সি দ্বারা পূন: তদন্তের আবেদন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD