বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৭:২৩ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
বানারীপাড়ায় দুদিন ব্যাপী বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা সম্পন্ন বীরগঞ্জের নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা ও বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত-৭, থানায় একাধিক অভিযোগ আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আলম রাজিবকে অভিনন্দন নড়াইলে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার যুবক গ্রেপ্তার রাজারহাটে আনসার ভিডিপি’র উপজেলা সমাবেশ-২০২২ অনুষ্ঠিত ভারশোঁ ইউপির উথরাইল বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত নড়াইলে মাছের ঘেরে গাঁজা চাষ, আটক ২ নাচোলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ উপলক্ষে মতবিনিময় কেশবপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে ফাইনালে চাম্পিয়ান সুফলাকাটি ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ
মুন্সীগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৪৩

মুন্সীগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সারা দেশব্যাপী মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জে ১২ দিনে ৪৪৩ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত ১৮ মে (শুক্রবার) থেকে ৩০ মে (বুধবার) পর্যন্ত চলা অভিযানে তারা আটক হন বলে জানা গেছে।

অভিযান শুরুর একদিন আগে (১৭ মে) জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম সদর থানা কম্পাউন্ডে ওপেন হাউস ডে সভায় মাদকের বিরুদ্ধে জেলাব্যাপী যুদ্ধ ঘোষণা করেন। তারপর শুরু হয় জেলাব্যাপী মাদক বিরোধী সাড়াশী অভিযান। এতে মাদকের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ও বিভিন্ন মামলায় পলাতক আসমিরাও পুলিশের হাতে আটক হন।

একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে ৭১ জনকে সাজা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পাশাপশি দুই ডজন মামলার আসামি মো. সুমন বিশ্বাস ওরফে কানা সুমন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই গ্রুপ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে দাবি করে পুলিশ।

জেলাব্যাপী মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী অভিযান বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, দেশকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। মুন্সীগঞ্জ জেলায় কোনো মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারী বা তাদের গটফাদারদের স্থান নেই। মাদকের সাথে জড়িত কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার ৬টি থানায় একযোগে অভিযান শুরু করা হয়েছে এবং ১২ দিনে জেলায় মোট ৪৪৩ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ জেলা মাদক মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অভ্যাহত থাকবে। এ যুদ্ধে পুলিশের সাথে স্থানীয় জনতাও অংশ নিয়েছেন। তারা আবার সেই ৭১ এর ন্যায় মাদক বিরোধী যুদ্ধে নেমে পুলিশকে সহায়তা করছে। কাজেই মুন্সীগঞ্জ মাদক, সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ মুক্ত হতে শুরু করেছে। খুব শিগগিরই শতভাগ সফলতা পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট থানা সূত্রে জানা যায়, চলমান অভিযানের ১২ দিনে গজারিয়া থানায় মোট আটক হয়েছে ৬৩ জন। এর মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিলে ৪৮ জন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে বিভিন্ন মেয়াদে ৭ জনের সাজা, মাদকের ৭টি মামলায় ৮ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

সদর থানা পুলিশ মোট ৮৬ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে চোর হিসেবে ৩ জন, ডাকাত ১ জন, ওয়ারেন্ট তামিলে ২০ জন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে বিভিন্ন মেয়াদে ৭ জনকে সাজার মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ, মাদকের ৪০টি মামলায় ৫৬ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

সিরাজদিখান থানা পুলিশ মোট ৫৯ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিলে ২৮ জন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে ২১ জনের ৬ মাস করে সাজা এবং ৯টি মাদক মামলায় ১০ জন আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

টঙ্গিবাড়ি থানা পুলিশ মোট ১১০ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিলে ৫৫ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে ১০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ৩৫টি মাদক মামলায় ৪৫ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

লৌহজং থানা পুলিশ মোট ৬৩ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিলে ২৮ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে ১৩ জনের ৬ মাস করে সাজা এবং ১৭টি মাদক মামলায় ২২ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায় এবং শ্রীনগর থানা পুলিশ মোট ৬৮ জনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিলে ৩০ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাহায্যে ১৩ জনের ৬ মাস থেকে ১ বছর করে সাজা এবং ১৫টি মাক মামলায় ২৫ জন আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

এদিকে, জেলাব্যাপী এ অভিযানের কারণে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার শঙ্কায় অনেকে স্বেচ্ছায় কারাবাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক অভিভাবক তাদের মাদকাশক্ত ছেলেদের স্বেচ্ছায় কারাবাসের জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থ হচ্ছেন। অনেকে আবার মুন্সীগঞ্জ ছেড়ে বিভিন্ন শহরে ছদ্মবেশে জীবন যাপনের পথ বেছে নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। এলাকাবাসী মাদক বিরোধী অভিযানের জন্য সরকারের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD