রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনকারী জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন মুন্সীগঞ্জ মিরকাদিমে ডিবি পুলিশের অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজন গ্রেপ্তার করোনায় মানুষকে বাঁচাতে শেখ হাসিনা যখন যা দরকার সবই করছেন-অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজিজ।। জনসেবার ইচ্ছা থেকেই ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি- ত্রিশালের কাঁঠালে প্রার্থী ফাতেমা খাতুন।। অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি হলেন সাংবাদিক তরিকুল ইসলামে ছোট ভাই ‘আবু সাহিদ’ বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তার উপদ‌েষ্টা কে ফু‌লের শু‌ভেচ্ছা জানা‌লেন বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তা প‌রিবার তারাকান্দায় প্রয়াত চেয়ারম্যানপুত্র শিশিরকে নৌকার মাঝি হিসাবে চান ভোটাররা। সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন চেয়ারম্যান উজ্জল। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুর্যোগে জনগণের পাশে ছিল শেখ হাসিনা সরকার-পলক
বাংলাদেশে সমন্বয়হীনতায় ব্যর্থ ট্রাফিক পুলিশ

বাংলাদেশে সমন্বয়হীনতায় ব্যর্থ ট্রাফিক পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট :
রাজধানীর রাস্তায় যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ একের পর এক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে পারছে না।

দিনভর রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে হাতের ইশারায় রাস্তা সচল রাখার চেষ্টা করলেও উল্টো গতি কমছে সড়কের।

যানজট নিয়ন্ত্রণের পুরো ব্যর্থতা সরাসরি এসে পড়ছে ট্রাফিক পুলিশের ওপর। এরই মধ্যে কিছু অসাধু সদস্যের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সে ব্যর্থতাকে আরো বড় করে তুলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ব্যর্থতার পেছনে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকাই সবচেয়ে বেশি দায়ী। পরিকল্পনা ছাড়া রাস্তায় মার্কেট, হাসপাতাল ও রেস্তোরাঁ নির্মাণের কারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সমন্বয় ছাড়া নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলায় পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

প্রতিদিন যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি চালকের অসচেতনতাও দায়ী। ঢাকায় ডিজিটাল ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম চালুর করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে এই ব্যবস্থাটি পুলিশের হাতে দেওয়া হলেও সেটি এখনো চালু হয়নি। উপকরণের (লজিস্টিক) ও দক্ষ লোকবলের অভাবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু হচ্ছে না বলে জানায় একাধিক সূত্র।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান, অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম বলেন, ‘নগর সেবার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট। তবে ট্রাফিক পুলিশ যেহেতু সরাসরি ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাজ করে, ফলে ট্রাফিক পুলিশের কিছু ভূমিকা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করি।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় সমস্যা আছে।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১০ তলার ওপরে উচু ভবন হলে ট্রাফিক পুলিশের অনুমোদন নিতে হয়। তবে ১০ তলার নিচে ভবন করেও বড় মার্কেট করা হচ্ছে। যা আশপাশের ট্রাফক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক ভূমিকা রাখলেও কিছু করার নেই। যেমন- বিমানবন্দর সড়কে দু’টি মার্কেট হচ্ছে। অথচ সেখানে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশন যেকোনো স্থানে ক্লিনিক, রেস্টুরেন্টের অনুমোদন দিয়ে দেয়। আবার রাস্তা খোড়াখুড়ি করে সংস্কার কাজও হচ্ছে বর্ষার সময়।

উন্নয়ন কাজের কারণে দুর্ভোগের বিষয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নমূলক কাজগুলো হলে দৃশ্য বদলে যাবে। এলিভেটেড ও এমআরটিএফ (পাতাল রেল) যানজটের সমস্যা কেটে যাবে। তবে কাজের জন্য যে সমস্যা হচ্ছে তার দূর করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা প্রয়োজন। আমরা সংস্কার ও নির্মাণের কাজগুলো রাতেই করতে বলি।’ রাস্তায় সিগন্যাল না মানা ও বিশৃঙ্খলার ব্যাপারে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘আইন না মানার বিষয়টি আছে। তবে আমি মনে করি সিস্টেম ডেভেলপ করলে সমস্যা থাকবে না।’

ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেম চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে মীর রেজাউল আলম বলেন, অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা আছে- পুলিশ বাতির সিস্টেম না করে হাতের ইশারায় করছে। এতে পুলিশের লাভ! টাকা খেতে পারে! তবে এর কারণে যে কী পরিমাণ কষ্ট হচ্ছে তা কেউ দেখছে না। ট্রাফিক পুলিশের অনেক কাজ আছে। পদ্ধতি ডেভেলপ করলে আমাদেরই লাভ। এটি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এতো যানবাহনের নগরীতে সে পদ্ধতিটি কার্যকর করা একটি চ্যালেঞ্জ।’

ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগের ব্যাপারে বিভাগের প্রধান বলেন, ‘আমাদের সব সদস্য যে ভালো তা নয়। যারা অপরাধ করে তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নগরবাসীর সেবা দেওয়ার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোধে-বৃষ্টিতে কাজ করে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। সার্বিক পদ্ধতির সমন্বয় এবং নৈতিকভাবে উন্নয়ন না হলে এর সুফল নাগরিকরা পাবেন কিভাবে।’
রাজধানীতে ঘুরে দেখা গেছে, রোজার মধ্যেও দিনভর বড় সিগন্যালে যানজট লেগে আছে।

রাজপথে শৃঙ্খলা আনার জন্য দঁড়ি দিয়ে রাস্তা আটকানো, ইউটার্ন বন্ধ করা ও ডিভাইডার তৈরিসহ বেশ কিছু দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড দেখা গেছে। বিজয় সরণিতে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা বলেন, আমরা চেষ্টা করি। তবে গোড়ায় গলদ থাকলে আমরা কী করব! এখন মানুষকে সচেতন করতে নানা কাজ চলছে।

ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের ভালো কাজের জন্য পুরস্কারও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

ডিএমপি সূত্র জানায়, দেশে ট্রাফিক পুলিশ ব্যবস্থার প্রবর্তন স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে। সেই সময় সারা দেশে মাত্র ১০৯ জন ট্রাফিক পুলিশ ছিল। এর পর প্রতিবছরই সড়কের ব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৯৮০ সালে ছিল তিন হাজার, ১৯৯০ সালে চার হাজার, ২০০০ সালে পাঁচ হাজার, ২০১০ সালে ছয় হাজার এবং বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। যার মধ্যে শুধু রাজধানী ঢাকায় চার হাজার ট্রাফিক সদস্য আছে। ট্রাফিক পুলিশের উন্নয়নে একের পর এক উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর ধানমণ্ডি-মিরপুর রোডের অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘গাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে অফিস বা ঘরে ফেরার সময়ের কারণে জট লাগে। তবে রমজানে বিশেষভাবে দিনের বেলায় সব গাড়ি পাড় করায় তেমন জট নেই। চার দিকের সিগন্যালে এক দিক খোলা রাখলে তিন দিক কিন্তু বন্ধ রাখতে হয়। এটা পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে অন্য দিকে জ্যাম লাগতেই পারে।’

ডিএমপির সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন শ নতুন গাড়ি নামছে রাস্তায়। এর বেশির ভাগই চলছে ঢাকার রাস্তায়, যার পরিমাণ শহরের মাত্র ৮ শতাংশ। একটি শহরে ২৫ শতাংশ রাস্তা থাকার কথা। সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা গেছে, প্রতিদিন ট্রাফিক পুলিশ আইন ভাঙার কারণে গড়ে দুই হাজার মামলা করছে। ভিভিআইপিদের গাড়িসহ উল্টোপথে চলা গাড়িও প্রতিহত করেছে। এর ফলে কিছুটা শৃঙ্খলা দেখা দিলেও যানজট কমেনি।

সূত্র জানায়, যানবাহন স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চালাতে দক্ষ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা দরকার। একই সঙ্গে পরিষেবা দাতা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ও প্রয়োজন।
সূত্র : কালের কণ্ঠ

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD