শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
মুন্সীগঞ্জে পারভেজ বেপারীর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে ফুলপুরের বওলা ইউনিয়নে জাপার প্রার্থী উজ্জ্বল খানের ব্যাপক গণসংযোগ ।। বাজশাহীতে শিক্ষকের মারপিটে ছাত্র ও তার মা আহত আশুলিয়ার জামগড়ায় “ফ্যান্টাসী কর্নার চাইনিজ এন্ড রেস্টুরেন্টের” নতুন সংযোজন! আশুলিয়ায় স্বামী পলাতক-অসহায় সুন্দরী স্ত্রী সন্তান নিয়ে বিপাকে সুজানগর পৌরসভার উদ্যোগে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুজানগরে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভা কেশবপুরে ২৭বিলের পানি সরানোর দাবিতে মানববন্ধন কেশবপুরে ১২টি গ্রামের পানি বন্দি মানুষ ত্রাণ চায় না, পানিবন্দির থেকে মুক্তি চায় ডিমলায় বন্যা দূর্গত ৫ শত পরিবারে মাঝে ত্রাণ বিতরণ
টানা বৃষ্টিতে ধলাইও মনু নদীর পানি বৃদ্ধি, ২টি বাধ ভাংগন,৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ

টানা বৃষ্টিতে ধলাইও মনু নদীর পানি বৃদ্ধি, ২টি বাধ ভাংগন,৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ঃ
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার ধলাই ও মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কুলাউড়ার শরীফপুরে মনু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাথে সাথে কমলগঞ্জে ধলাই নদীরও পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ২টি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে। কমলগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সৃৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে গত দুদিন যাবত অবিরাম বৃষ্টির ফলে মঙ্গলবার ভোর থেকে মনু ও ধলাই নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে শরীফপুর ইউনিয়ন কার্যালয় সংলগ্ন মনু সেতু এলাকায় পানি বিপদ সীমার ২৫ সে:মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহিাড়ি ঢলের পানির স্রুতের আঘাতে মনু সেতু সংলগ্ন প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর স্থাপিত বালির বস্তা ভেসে যেতেও শুরু করে। ঝুঁকিপূর্ণ মনু সেতুর উত্তর দিকের গাছের পাইলিংও ভেঙ্গে যেতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার ১২ জুন বেলা ২টায় কমলগঞ্জের ধলই সেতু এলাকায় ধলাই নদের পানি বিপদ সীমার অনেক উপর দিয়ে প্রাবহিত হয়। কমলগঞ্জে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষক আব্দুল আউয়াল সাংবাদিকদের, এখানে ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ২৫ সে:মি: উপর দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যেভাবে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে ও তাতে ধলাই নদীতে আরও পানি বেড়ে যাবে। মঙ্গলবার বেলা২টায় কমলগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের করিমপুর গ্রাম এলাকায় ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে ও ফসলি জমিতে। দ্রুত গতিতে পানি বেড়েই চলেছে। কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃজুয়েল আহমদ এ ভাঙ্গনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন এর ফলে এ গ্রামের তিনশত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সুরানন্দপুর গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে প্রায় ১০০ ফুট এলাকার একটি নতুন ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। এ ভাঙ্গনে ধলাই নদেও পানি দ্রুত গতিতে গ্রামে ও ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। ফলে সুরানন্দপুর গ্রামে নতুন করে আরও ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের করিমপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের সুরানন্দপুর গ্রামে ৪০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ পানি আবার আরও দুটি ইউনিয়নের কম পক্ষে ১০টি গ্রামকে প্লাবিত করবে। দুটি ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করায় কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার সড়কের করিমপুর ও সুরানন্দপুর এলাকা ২ ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর, ইসলামপুর কমলগঞ্জ সদর ও আদমপুর ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। মাধবপুর ইউনিয়নের হীরামতি এলাকায় ধলাই নদীর পুরানো ভাঙন দিয়ে পানি বের হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ও কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ জুয়েল আহমদ মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় সুরানন্দপুর নতুন ভাঙ্গন এলাকা ও করিমপুর এলাকা পরিদর্শণ করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী ধলাই নদীর বিপদ সীমার ৩৮ সে:মি: ও চাতলাপুর সেতু এলাকায় মনু নদী বিপদ সীমার ৮০ সে:মি: উপর দিয়ে পানি প্রবাহিতের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, কোন বরাদ্ধ না থাকার পরও নিজ দায়িত্বে এই দুটি নদীর ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধে ইতিপূর্বে প্রায় ৮ কোটি টাকারও সংস্কার কাজ করেছিলেন।
টানা বৃষ্টিতে কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে দূর্ভোগ।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD