রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনকারী জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন মুন্সীগঞ্জ মিরকাদিমে ডিবি পুলিশের অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজন গ্রেপ্তার করোনায় মানুষকে বাঁচাতে শেখ হাসিনা যখন যা দরকার সবই করছেন-অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজিজ।। জনসেবার ইচ্ছা থেকেই ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি- ত্রিশালের কাঁঠালে প্রার্থী ফাতেমা খাতুন।। অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি হলেন সাংবাদিক তরিকুল ইসলামে ছোট ভাই ‘আবু সাহিদ’ বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তার উপদ‌েষ্টা কে ফু‌লের শু‌ভেচ্ছা জানা‌লেন বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তা প‌রিবার তারাকান্দায় প্রয়াত চেয়ারম্যানপুত্র শিশিরকে নৌকার মাঝি হিসাবে চান ভোটাররা। সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন চেয়ারম্যান উজ্জল। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুর্যোগে জনগণের পাশে ছিল শেখ হাসিনা সরকার-পলক
আগৈলঝাড়ায় ঈদকে সামনে রেখে মাদক ব্যবসায়ীদের কৌশল বদল

আগৈলঝাড়ায় ঈদকে সামনে রেখে মাদক ব্যবসায়ীদের কৌশল বদল

১৩ মামলায় ২৩ আসামি, গ্রেফতার হয়নি কোন গডফাদার
আগৈলঝাড়া প্রতিনিধিঃ ইয়াবা আর গাঁজার পাইকারী ও খুচরা বিক্রিসহ অহরাহ সেবন চলছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায়। হাত বাড়ালেই মেলে সহজলভ্য ইয়াবা ও গাঁজা। পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে আগৈলঝাড়ায় ১৩টি মামলায় ২৩জনকে আসামী করা হলেও এখন পর্যনত্ম গ্রেফতার হয়নি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদকের কোন গড ফাদার বা পাইকারী বিক্রেতা। ঈদকে সামনে পুলিশী চোখ এড়িয়ে কৌশল বদল করে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসাীয়রা।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক মোলস্না জানান, ১৮ মে থেকে থানা পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান বিশেষ অভিযানে ৮জুন পর্যনত্ম থানায় মাদকের মোট ১৩টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ওই মামলায় ১৫জনের উপরে আসামী গ্রেফতা হয়েছে। একাধিক মামলায় একাধিক আসামী হওয়ায় আসামীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৩ জনে। উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত জানান, পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা খুচরা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও তালিকাভুক্ত গডফাদার ও পাইকারী ব্যবসায়িরা এখনও পুলিশের রয়েছে অধরা। পুলিশের করা তালিকানুযায়ি উপজেলায় তালিকাভুক্ত কোন বড় ব্যবসায়ি এখন পর্যনত্ম গ্রেফতার হয়নি, আটক হয়নি বড় ধরনের কোন মাদকের চালানও।
জেলা গোয়েন্দা (ডিএসবি) পুলিশের তালিকানুযায়ি উপজেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির তালিকায় ডিলার, পাইকারী বিক্রেতা ও সেবনকারী হিসেবে ১শ ৪১জনের নাম রয়েছে। ২০১৭সালের ১৩মার্চ পুলিশের আহ্বানে আগৈলঝাড়া থানা চত্তরে মাদক ব্যবসায়ি ও সেবনকারীদের একটি আত্মসমর্পন অনুষ্ঠান হয়। ওই অনুষ্ঠানে তালিকার মাত্র ৪৯জন মাদকসেবী, ২০জন বিক্রেতা ও দুইজন গডফাদারসহ মোট ৭১জন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে আত্মসমর্পনকরা কোন মাদক ব্যবসায়ি বা গড ফাদার তাদের হেফাজতে থাকা মাদকের কোন অংশই পুলিশের কাছে জমা দেয়নি। এমনকি তালিকাভুক্ত অনেককে স্বাভাবিক জীবনে ফিরাতে পুলিশের নেয়া উদ্যোগ কোন কাজেই আসেনি। স্বাভাবিক জীবনে ফেরেনি কোন মাদক সেবীরা। এর ফলে অনেকেই পুনরায় মাদকসহ র‌্যাব, পুলিশের হাতে একাধিবার গ্রেফতার হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে বিভিন্ন সময় আটক ব্যবসায়িদের দেয়া তথ্য মতে, বেনাপোল-খুলনা থেকে যশোর-গোপালগঞ্জ হয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাট এলাকাকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে ব্যবসায়িরা। পয়সারহাট থেকে বিভিন্ন রম্নটে মাদকের চালান পৌছে যায় বরিশাল বিভাগীয় শহরসহ দক্ষিাঞ্চলীয় জেলাগুলোতেও। পুলিশ প্রশাসন মাঝে মধ্যেই গাঁজা বিক্রেতা ও সেবনকারীকে গ্রেফতার করলেও মুল হোতাদের গ্রেফতারে তৎপর না হওয়ায় কোন ভাবেই মাদকের ব্যবসা ও সেবন রোধ করা যাচ্ছে না বলে উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃংখলা সভায় সরকারী বে-সরকারী কর্মকর্তা, জন প্রতিনিধি ও সুধী সজ্জনেরা অভিযোগ করে আসছেন। জেলা পুলিশ বিশেষ শাখার সর্বশেষ তালিকানুয়ায়ী, উপজেলায় পাইকারী গাঁজা, পেন্সিডিল ও ইয়াবার পাইকারী বিক্রেতার সংখ্যা ৩৮জন। এদের মধ্যে ছাত্র শিবির, বিএনপি নেতা, জেলা পরিষদ সদস্যর সনত্মান, মুক্তিযোদ্ধার সনত্মান, তালিকাভুক্ত রাজাকার সনত্মান থেকে শুরম্ন করে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক ব্যাক্তির নাম রয়েছে। ২০১৪ সনে ওই তালিকায় বিক্রেতার সংখ্যা ছিল মাত্র ২২জনে। সূত্র মতে, এলাকায় নৌ-ডাকাত, সড়ক ডাকাত, বিদ্যুৎ ট্রান্সমিটার চোরের তালিকায় নাম রয়েছে ২১জনের। তালিকাভুক্ত ২১জনের সকলের বিরম্নদ্ধেই রয়েছে একাধিক মামলা। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের নামের তালিকায় রয়েছে ৩০জন। তবে গোয়েন্দা তালিকাভুক্ত কাউকেই বিশেষ অভিযানে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। সংশিস্নষ্ঠ সূত্র মতে, উপজেলায় মাদক বিক্রি ও সেবনের কয়েকটি চিহ্নিত উলেস্নখযোগ্য স’ানের মধ্যে গৈলা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড, সদর বাজারের কালিখোলা, পয়সারহাটের পূর্ব ও পশ্চিমপাড়ের ভ্যানস্ট্যান্ড, বাগধা পূর্ব ও পশ্চিমপাড় বাজার, পাকুরিতা স্কুল এলাকা, জোবারপাড়-নাঘিরপাড়ের ব্রিজ ও স্কুল এলাকা, বড়মগরার উত্তরপাড়, আস্করের বাঁশতলা, চক্রিবাড়ি, কান্দিরপাড়, ছয়গ্রাম বন্দর, মিশ্রিপাড়া হাট ও সুইজগেট, কালুরপাড়, সাহেবেরহাট, মাগুরা বাজার, ভালুকশি, রাজিহার চৌরাসত্মা মোড়, পোষ্ট অফিস রোড, আলোশিখা ক্লিনিক এলাকা, বাশাইলহাট ওয়াপদা রোড, পূর্ব সূজনকাঠী, রামেরবাজার, রামানন্দেরআঁকসহ বিভিন্ন স’ানে প্রতিনিয়ত মাদকবিক্রি ও সেবন চলছে। স’ানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কালী খোলার মুদি দোকানেও পাওয়া যায় মাদক। এসব দোকানে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছেই কেবল মাদক বিক্রি হয়। সংশিস্নষ্ট সূত্রমতে, টেকেরহাটে পুলিশ চেকপোস্ট বসার কারণে মাদক পাচারকারীরা আগৈলঝাড়ার আশেপাশে কোন পুলিশী চেকপোস্ট না থাকায় পয়সারহাট এলাকাকে অধিক নিরাপদ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে। এ রম্নটের ব্যবসায়ীরা ত্রিমুখী ও আমবৌলা খেয়া ঘাট দিয়ে মাদকের বড় চালান পার করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও রামশীল থেকে রাজিহার হয়ে চাঁদশী হয়ে গৌরনদী ও রাজিহার থেকে ঘোষেরহাট রম্নট ব্যবহার করছে ব্যবসায়িরা। ঘোষেরহাট ঠাকুর বাড়ি মাদকের অন্যতম একটি বড় বিক্রয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ওই এলাকার বিক্রেতারা বাশাইল ওয়াপদা এলাকায় ভ্রাম্যমান মাদক বিক্রির স্পট গড়ে তুলেছে। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক মোলস্না জানান, আগৈলঝাড়ায় মাদক বিরোধী অভিযান সনেত্মাষ জনক। আগৈলঝাড়ায় মাদকের কোন গডফাদার নেই। বিশেষ অভিযান ছাড়াও তালিকাভুক্ত ও তালিকা ছাড়া মাদক সেবীরা গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে রয়েছে। মাদকসহ আটককৃতদের বিরম্নদ্ধে পুলিশ মামলা দিচ্ছে। বিশেষ অভিযান ছাড়াও মাদকের বিরম্নদ্ধে সর্বোচ্চ শতর্ক অবস’ায় থেকে ব্যবসায়ি ও সেবনকারীদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে পুলিশ। ঈদ উপলক্ষে মাদকের বিরম্নদ্ধে কঠোর নজরদারি গ্রহণ করে পুলিশী প্রহরাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস’া ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও ঈদকে সামনে রেখে আইন শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে সম্ভাব্য সকল প্রসত্মুতি গ্রহণ করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD