বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
ময়মনসিংহে ওসি কামালের নেতৃত্বে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার-১৩ জাতীয় তরুণ পার্টি ফুলবাড়িয়া পৌর শাখার আহবায়ক কমিটির অনুমোদন।। কেন্দুয়ায় ধানের পোকা চিহ্নিত করতে ‘আলোক ফাঁদ’ স্থাপন হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতু নির্মাণের দাবীতে বিশাল মানব বন্ধন ও জনসভা ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির জানাজায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অমিত তারাকান্দায় ৫৩ পূজামন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস -ইউএনও’র।। ঝিনাইদহে অফিসিয়ালি তদারকি ছাড়া ৮৮ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ হচ্ছে! নড়াইলে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত নাচোলে তাল গাছের বীজ বপন মহাসংকটে স্বরূপকাঠি সমিতি
চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি ফিরে গেছে পাইকগাছার ট্রি-ম্যান আবুল বাজনদার

চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি ফিরে গেছে পাইকগাছার ট্রি-ম্যান আবুল বাজনদার

ইমদাদুল হক,পাইকগাছা খুলনা॥ খুলনার পাইকগাছার বহুল আলোচিত ‘বৃক্ষমানব’ হিসেবে পরিচতি পাওয়া বিরল রোগ ট্রি-ম্যান সিনড্রোমে আক্রান- ভ্যানচালক আবুল বাজনদার কাউকে কিছু না জানিয়েই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (ডিএমসিএইচ ) ছেড়ে চলে গেছেন। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
পাইকগাছা পৌরসভার সরল গ্রামের মানিক বাজনদারের ৪ ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে আবুল ৬ষ্ঠ। পারিবারিক সূত্র জানায়,১০ বছর বয়স থেকে সে বিরল রোগ হিউম্যান পাপ্পিলোমা ভাইরাসে (এইচপিভি) আক্রান- হলে তার শরীরের বিভিন্ন স’ানে গাছের শিকড়ের ন্যায় লম্বা অংশ গজাতে থাকে। এক সময় চলাচল পর্যন- বন্ধ হয়ে যায় তার। স’ানীয় পর্যায়ে নানা রকম চিকিৎসা করিয়ে সহায়-সম্বল ও সর্বশেষ বসত-ভিটা পর্যন- বিক্রি করে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে স্বজনরা তাকে নিয়ে ভ্যনে করে বাজারে বাজারে ভিক্ষা করে সংসারের খরচ ও স’ানীয়ভাবে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। এমন পরিসি’তিতে দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় তাকে নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশে সরকারি তত্ত্বাবধানে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে।
গত শনিবার কাউকে কিছু না বলে বাইরে বেরিয়ে যান, আর ফিরে আসেননি। শুরুতে সুচিকিৎসা পেলেও পরে চিকিৎসকরা আর আগের মতো তার যত্ন নেয়নি জানিয়ে আবুল বাজনাদার বলেন, শুরুতে চিকিৎসকরা বলেছেন, ভয়ের কিছু নেই। চিকিৎসার পর তুমি ভালো হয়ে যাবে। এখন বলছেন, তোমার রোগটি জেনেটিক। তোমার রোগটি ভালো হবে না। বার বার শিকড় গজাতেই থাকবে, বার বার অস্ত্রোপচার করা লাগবে। সারাজীবন ধরে চলবে এই রকম চিকিৎসা। তাদের কথায় আমার মন ভেঙে গেছে।আমি সুস’ স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে বেঁটে থাকতে চাই, সুচিকিৎসা চাই।
আবুল জানান,গত দু’বছরে অন-ত ২৫ দফার অস্ত্রপচার হয়েছে তার শরীরে। এরপরও তার হাত ও পায়ের কিছু কিছু জায়গায় ফের আধা ইঞ্চির মত লম্বা শিকড়-বাকড়ের ন্যায় শ্বাসমূল গজিয়েছে। এমন পরিসি’তিতে তার চিকিৎসকরা তাকে জানান,সমস্যাটি মূলত জেনেটিক এবং সারা জীবন নাকি তাকে এটা বয়ে বেড়াতে হবে। আবুল বলেন,এর আগে চামচ দিয়ে তিনি খাবার উঠিয়ে খেতে পারছিলেন,সর্বশেষ সেটাতেও তার সমস্যা হচ্ছে। মূলত এসব কারণেই হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে দাবি আবুলের। আবুল আরো জানান,২মার্চ হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে এসে সর্বশেষ ১৫ মে হাসপাতালে ফিরলে হাসপাতালের দায়িত্বরতরা বিরক্তি প্রকাশ করেন।
এর আগে এক প্রতিবেদনে আবুলের হাত-পায়ে ফের গাছের শিকড়-বাকড়ের ন্যায় অদ্ভুত শ্বাসমূল বস-ু গজানোর বিষয়টি উঠে আসে। আর এতে নতুন জীবনে ডাক্তারদের পূণর্বাসনে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়া আবুলের মনে নতুন করে নানা আশংকার কথাও প্রকাশ পায়। সেবার ১৬ বারের সফল অস্ত্রপচারে শরীরের ৫ কেজি ওজন কমেছিল তার। ডাক্তারদের উদ্বৃতি দিয়ে পুরনো দুস্মৃতিকে মনে পড়ে আবুলের। প্রতিবেদনে উঠে আসে বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন আবুলের আশংকার কথা,হয়তোবা বিরল ব্যধি আমৃত্যু পিছু ছাড়বেনা তার। এমন পরিসি’তিতে সন-ানের হাত ধরে স্বাভাবিক চলাফেরার অভূতপূর্ব অনুভূতি বার বার আপ্লুত করছিল তাকে।
চিকিৎসকরা জানান,বিশ্বে ওয়ার্ট রোগে আক্রানে-র সংখ্যা এখনও পর্যন- চারজন। এমন বিরল রোগ সাধারণত জিনগত কারণে হয়ে থাকে বলেই মনে করেন তারা। পাপ্পিলোমা ভাইরাস মানুষের শরীরে একশ উপায়ে আক্রমণ করতে পারে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশই যৌনাঙ্গে আক্রমণ করে থাকে। সব ধরনের এইচপিভি ভাইরাসের কারণে শরীরে আঁচিল হতে পারে।
এর আগে ডিএমসিএইচর বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা.সামন- লাল সেন বলেন,এ ধরনের অসুখ বাংলাদেশে এই প্রথম এবং গোটা বিশ্বে বিরল। ইতোপর্ূর্বে ২০০৭ ও ২০০৯ সালে মাত্র দু’জন এ রোগে আক্রান- হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। এদের একজন ইন্দোনেশিয়া ও অপরজন রোমানিয়ান। এ ধরণের রোগীকে সাধারণত ‘বৃক্ষ-মানব’ বলা হয়ে থাকে। ২০১৫ সালে যে সময় আবুলকে ঢাকায় বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয় তার সপ্তাহ খানেক পূর্বে ইন্দোনেশিয়ায় বিরল রোগে আক্রান- কসওয়ারা দেদে নামে একজনের মৃত্যু হয়। ঠিক এমন পরিসি’তিতে ঢাকার বার্ণ ইউনিটের (ডিএমসিএইচ) চিকিৎসকরা বাজানদারের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বোডের্র সফল অস্ত্রপচারে আবুলের সুস’্যতা গোটা চিকিৎসা জগতের বিরল সাফল্য এনে দিয়েছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের সমন্বয়ক ডাঃ সামন- সাংবাদিকদের সর্বশেষ পরিসি’তিতে আবুলের চলে যাওয়া নিয়ে বলেন,কে তার সাথে খারাপ আচরণ করেছিল কিংবা তার সমস্যাগুলো ঠিক কোথায় তা সে তাকে জানাতে পারতো বলেও আক্ষেপ করেন।
এর আগে দু’দিনের জন্য বাড়িতে আসা আবুল বাজনদার তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন,অসুস’্য অবস’ায় অসহ্য যন্ত্রণা হত আক্রান- স’ানে। একমাত্র ঠিকানা ভ্যান গাড়িতে শুয়ে কখনও তার ভাবা হয়নি নতুন জীবনে ফেরা আর। তবে দু’বছরের চিকিৎসার পর ফের একই সমস্যায় আক্রান- নিয়ে তার আশংকা ছিল,দুঃসহ যন্ত্রণা কি তবে ফের থাবা বসাবে তার জীবনে? নতুন করে হাত-পায়ের আঙুলগুলো কি ঢেকে যাবে অদ্ভুত শিঁকড়ে? এমন আশংকায় আবুল ও তার পরিবারে নিত্য নতুন ভবনার জন্ম দিচ্ছিল।
অন্যদিকে চিকিৎসাধীন অবস’ায় তার মেডিকেল টিমের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডঃ কবির চৌধুরী জানতে পারেন যে,আবুলের বসবাসের জন্য কোন জায়গা নাই। এরপর তিনি জমি কিনে বাড়ি করার জন্য আবুলকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন। চিকিৎসকের আর্থিক সহায়তায় আবুল ২০১৬ সালের জুনে পৌরসভার ৪নং ওয়াডের্র সরল মৌজায় শিক্ষক মাখন লাল গংদের নিকট থেকে ২টি কোবলা দলিল মূলে এস,এ ৬৩০ দাগ সহ ভিন্ন দাগে প্রায় ১১ শতক জমি ক্রয় করে কোন রকমে বসত বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে গত ৩ মাস ধরে বসবাস শুরু করছেন তার পরিবার। তবে বাড়ির কোন যাতায়াতের পথ না থাকায় পরিবার-পরিজনের অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার খবওে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে বিষয়টি অবহিত করলে তার হস-ক্ষেপে দখলমুক্ত হয় রাস-াটি। দেশের একমাত্র বিরল রোগে আক্রান- ভ্যান চালক আবুলের প্রতি তার চিকিৎসকদের যখন ছিল এমন ভালবাসা ও হৃদ্রতায় ঠাঁসা তখন কি এমন ঘটল যে,রাতারাতি চিকিৎসা শেষ না করেই এক প্রকার পালিয়ে চলে আসতে বাধ্য হল আবুল? এমন প্রশ্নের সঠিক হিসেব মেলাতে পারছেননা এলাকাবাসীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স-রের মানুষ।
সর্বশেষ যন্ত্রনায় কাতর আবুলের করুণ আকূতি,তিনি উন্নত চিকিৎসা পেলে পুরোপুরি ভাল হয়ে উঠবেন। তবে আর ঢাকা মেডিকেলে নয়।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD