বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিশেষ সতর্কীকরন - "নতুন বাজার পত্রিকায়" প্রকাশিত সকল সংবাদের দায়ভার সম্পুর্ন প্রতিনিধি ও লেখকের। আমরা আমাদের প্রতিনিধি ও লেখকের চিন্তা মতামতের প্রতি সম্পুর্ন শ্রদ্ধাশীল। অনেক সময় প্রকাশিত সংবাদের সাথে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে। তাই যেকোনো প্রকাশিত সংবাদের জন্য অত্র পত্রিকা দায়ী নহে। নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
বানারীপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা,প্রতারক রাসেলকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী পুলিশ।। অসম্প্রদায়িক চেতনায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে- ওসমান আলমদার তারাকান্দায় ইউএনও’র ব্যাপক কর্মতৎপরতা, তিন ড্রেজার মালিককে ১,৫০,০০০ টাকা জরিমানা।। পানছড়িতে ওসি’র নেতৃত্বে গাঁজাসহ আটক- ১ ধীপুর ইপি নির্বাচন : ২ নং ওয়ার্ডে মেম্বার হিসেবে আবুল কালাম কে দেখতে চায় এলাকাবাসী লালমনিরহাটে পানির চাপে ভেঙে গেছে ফ্লাড বাইপাস বাঁধ হঠাৎ ভয়াবহ বন্যা বানারীপাড়ায় “মহাত্মা গান্ধী স্মৃতি পদক ২০২১” পেলেন সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম ফুলবাড়িয়ায় তিনজন চেয়ারম্যানের প্রার্থীতা অবৈধ ৪ সদস্যের প্রার্থীতা বাতিল তানোরের কলমা ইউপিতে উঠান বৈঠক
খাসিয়ামারা নদীতে অবাধে বালি উত্তোলনে বিপন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রশাসন নির্বিকার!

খাসিয়ামারা নদীতে অবাধে বালি উত্তোলনে বিপন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রশাসন নির্বিকার!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ দোয়ারাবাজার উপজেলার পাহাড়ি খাসিয়ামারা নদীতে কয়েক বছর ধরে অবাধে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ অবাধে বালি উত্তোলনের ফলে সম্প্রতি নদীর দুইপারের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তারপরেও থামছেনা বালি উত্তোলন। এতে একদিকে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে অপরদিকে নদী হারাতে বসেছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপুর ও সুরমা এই দুই ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে গিয়ে সুরমা নদীতে মিশেছে ভারত থেকে আগত পাহাড়ি খাসিয়ামারা নদী। পাহাড়ি নদী হওয়ার দরুন বছরে অর্ধেক সময় শুকনো এবং বাকি অর্ধেক সময় স্রোত থাকে খাসিয়ামারা নদীতে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির স্রোতে ভারত থেকে নিয়ে আসে প্রচুর বালি ও পলিমাটি। এই বালি নদীর দুই তীরের ভাঙন রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু একটি মহল ব্যবসায়িক ফায়দা লুটতে অবাধে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করায় সম্প্রতি খাসিয়ামারা নদীতে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে গভীর উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছেন নদীর দুপারের বাসিন্দারা। সরজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে, খাসিয়ামারা নদীতে দৈনিক অর্ধশতাধিক স্টিলবডি নৌকায় বালি বোঝায় করতে দেখা গেছে। এসব বালি বোঝায় স্টিলবডি সুরমা নদীর মুখে জড়ো হয়। পরে এখান থেকে ১০০ টাকা ফুটেরও অধিক দামে জেলাসদরের বাইরে বিক্রি করা হয়। স্থানীয়রা জানান, উর্ধ্বতন প্রশাসন ও কিছু প্রভাবশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মেনেজ করেই বালি উত্তোলনের নামে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে। সুরমা ইউনিয়েনের আলীপুর বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া জানান, আমাদের স্থানীয়দের সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা না করে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। নদী ভাঙনে আমার অনেক সম্পদ হারিয়েছি। এখন আমার জীবিকার শেষ সম্বল একমাত্র দোকানটিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। একই গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন জানান, আমার অর্ধেক ফসলি জমি খাসিয়ামারা নদীগর্ভে বিলীন হয়েগেছে। এই কয়েক বছর বালি উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙন বেড়ে গেছে। বাকি জমিটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। নদী পারের বাসিন্দা দুলাল মিয়া জানান, আমার বসতবাড়ির উঠান এখন নদীগর্ভে আছে। নদীগর্ভে জমিজমা, বসতবাড়ি হারিয়েও আমরা কোনো ধরনের সহায়তা পাইনি। উল্টো বালি উত্তোলনের নামে আমাদের সর্বনাশ করা হচ্ছে। সরকার নাকি লিজ দিছে। আমরা কার কাছে অভিযোগ করবো? এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির বলেন, নদীর পারের সাইট থেকে বালি উত্তোলন করায় বাজার, ফসলিজমিসহ বসতবাড়ি নদীভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এতে নদীর পারের স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। সামনের আরো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা যাচ্ছে। এবিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানাচ্ছি। সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনূর রশীদ বলেন, বালি মহাল লিজ দেওয়া হয়েছে।নদীর দুই পারের সাইট থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন করলে নদী ভাঙ্গনের সম্ভাবনা থাকে। তবে স্থানীয়রা এতে ক্ষতিগ্রস্থ হলে বিষয়টি দেখবো। এখনো পর্যন্ত এব্যাপারে কোনো ধরনের অভিযোগ আসেনি। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, খাসিয়ামারা নদীতে একটি বালি মহাল ঘোষণা আছে। এটি জেলা প্রশাসন কর্তৃক সম্প্রতি ইজারা দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে আমাদের কাছে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি এসেছে। অবিলম্বে অপরিকল্পিত বালি উত্তোলন বন্ধ করে নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হোক এমনটাই দাবি খাসিয়ামারা নদী বিধৌত সুরমা ইউনিয়নের টিলাগাও, গিরিসনগর, আলীপুর, টেংরাটিলা, নূরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের।

Please Share This Post in Your Social Media



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD