শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
ময়মনসিংহে অসুস্থ জসিমের পাশে দাড়ালেন রওশন এরশাদ এমপি সাহারা খাতুন ছিলেন সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ। রওশন এরশাদ।। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বৈরচুনায় আশরাফুলের ব্লেডের আঘাতে আরিফুল গুরুতর আহত ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে ৬৬০টি থানার ওসির সঙ্গে ভার্চুয়াল সম্মেলন করলেন আইজিপি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাড. সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে এমপি শিবলী সাদিকের শোক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন মারা গেছেন করোনা আক্রান্ত হয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ারুল আজীম হেলালের মৃত্যু বর্ডার গার্ড প্রধান মেজর জেনারেল মোঃ সাফিনুল ইসলাম রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোলে নজরদারী জোড়দার মোংলায় দিপঙ্কার মৃধা’র ১০ হাজার মাস্ক বিতরণের প্রথম ধাপে ১২’শ বিতরণ
গোদাগাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্য ধানের গোলা বিলুপ্তির পথে

গোদাগাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্য ধানের গোলা বিলুপ্তির পথে


মোঃ হায়দার আলী, গোদাগাড়ী রাজশাহী থেকেঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চল থেকে প্রাচীন ঐতিহ্য ধানের গোলা প্রায় বিলুপ্তির পথে। উত্তরাঞ্চলের জেলার উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলে এখন আর ধানের গোলা তেমন চোখে পরে না।

কোথাও কোথাও ধানের গোলার খোঁজ মেলা দায় হয়ে পড়েছে। তাই বলা যায় গোদাগাড়ীসহ রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা, চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার বিভন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রাম বাংলার সেই ধানের গোলা ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে ক্রমেই অপরিচিত হয়ে উঠছে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো জাদুঘরে এই ধানের গোলা দেখতে হতে পারে।
একটু জুতওয়ালা কৃষকও এখন আর গরু পালতে চান না। পুকুর থাকলে তা মাটি ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এখন শহর চলে গেছে গ্রামে। অধিকাংশগ্রামে গড়ে উঠেছে বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গোলাভর্তি ধান, গোয়ালভরা গরু, পুকুরভরা মাছ এই ছিল আবহমান বাংলার কাব্যিক অভিব্যক্তি। জনশ্রুতি রয়েছে, এক সময় সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করত এই ধানের গোলার ওপর হিসাব কষে। এসব এখন শুধুই কল্পকাহিনী।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকার প্রবীন কৃষক আলহাজ্ব একরামুল হক বলেন, গোলায় অল্প জায়গায় অনেক ধান রাখা যায়। তাতে ধান শুকিয়ে রেখে দিলে অনেক দিন ভালো থাকে। তবে সেই ঐতিহ্য হারিয়েও কারোর আফসোস করতে দেখা যায় না। বরং ছেলে-বউ কিংবা মেয়ে-জামাই চাকুরি করে বলতেই বেশি সম্মানবোধ করেন গ্রামের অবস্থাশালি কৃষকগণ।

জানা গেছে, কৃষকের সমৃদ্ধির প্রতীক ধানের গোলা এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষি জমিতে এখন তৈরি হচ্ছে বসবাসযোগ্য ঘরবাড়ি। হারিয়ে যাচ্ছে কৃষিক্ষেত ও কৃষকের ঐতিহ্যবাহী গোলা। বর্তমানে মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত থাকলেও অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে নেই ধান মজুদ করে রাখার বাঁশ, বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি গোলাঘর। অথচ একসময় সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করতো কার কয়টি ধানের গোলা আছে। বর-কনে পাত্রস্থ করতেও ধানের গোলার খবর নিত বর-কনের লোকজন। যা এখন শুধু কল্পকাহিনী। গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ দিয়ে গোলাকৃতির তৈরি ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। কৃষকরা ধান কাটার মৌসুম এলেই শ্রমিকদের
কাছে ধান রাখার গোলা তৈরির জন্য খবর দিত। তারা বাড়িতে এসে বাঁশ দিয়ে তৈরি করত গোলা।
উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক জমির মালিক কৃষকদের ধানের গোলা দেখা যেত মিসরের পিরামিড আকৃতির মতো। দেখা যেত অনেক দূর থেকে। কৃষি অধ্যুষিত এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে বাঁশ, বাঁশের বাতা ও কঞ্চি দিয়ে প্রথমে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বর্গ বা আয়তক্ষেত্র আকারে গোলা তৈরি করা হতো। এঁটেল মাটির কাদা তৈরি করে ভিতরে ও বাইরে আস্তর লাগিয়ে দিত। এর প্রবেশপথ রাখা হতো বেশ ওপরে, যেন চোর/ডাকাত চুরি করতে না পারে। সেই সঙ্গে ইঁদুরও ধানের গোলায় ঢুকে ক্ষয়ক্ষতি করতে পারতো না। ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। গোলার মাথায় থাকত বাঁশ ও খড়ের তৈরি বা টিনের তৈরি ছাউনি। গোলায় শুকানো ভেজা ধানের চাল হতো শক্ত। কিন্তু সম্প্রতি রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আধুনিক কলের লাঙ্গল যেন উল্টে-পাল্টে দিয়েছে কৃষি অঞ্চলের চিত্র। গোলায় তোলার ধান আর তাদের থাকে না। গোলার পরিবর্তে কৃষকরা ধান রাখা শুরু করেছে পাঁকা ঘরে ঘরের বারান্দায় বস্তায় করে। ধান আবাদের উপকরণ কিনতেই কৃষকের বিস্তর টাকা ফুরায়। বর্তমানে সংসারে যেটুকু খাদ্যের প্রয়োজন, তা কৃষকরা চটের বস্তা বা ব্যারেলভর্তি করে রাখছে আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান-চাল। নব প্রজন্মের কাছে গোলাঘর একটি স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, আগে চেয়ে কৃষকদের আবাদি ও বসবাসের জমি কমে যাওয়া, গোলা তৈরিতে জায়গা বেশি লাগা, গোলাকে বায়ুরোধী রাখতে না পারার জন্য পোকা ও রোগের আক্রমণের সম্ভনা দেখা দেয়া ধানের গোলা এখন গুদাম ঘরে পরিণত হয়েছে।
উপজেলার সচেতনমহল মনে করেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় ছুয়েছে কৃষক ও কৃষকের পরিবারকেও। হয়তো চাকচিক্য ও বিলাসী জীবন তাদের ভুলিয়ে দিয়েছে ঐতিহ্যের কথা।
এখন আধুনিক গুদামঘর ধান-চাল রাখার জায়গা দখল করছে। ফলে গোলাঘরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু কি তাই? কাঠের নাঙ্গল, জোয়াল, ঢেঁকি, কাঠের উলকিসহ বিভিন্ন প্রাচীন এসব সমগ্রী বিলুপ্তির পথে। সেই সাথে গ্রাম বাংলার ঐহিত্য হিসেবে ধনীদের বাড়িতে থাকতো কাচারি ঘর বা বৈঠক খানা। সেই ঐহিত্য গ্রাম বাংলা থেকে এখন হারিয়ে যাচ্ছে। তাই গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐহিত্যগুলো ধরে রাখার জন্য প্রাযোজনীয় ব্যবস্থা জরুরিভাবে গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যত প্রজন্ম এ প্রাচীন এতিহ্য দেখতে জাদুঘরেই যেতে হবে।

মোঃ হায়দার আলী
গোদাগাড়ী, রাজশাহী

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD