বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
“স্বর্গে বুঝি আর ধান ভাঙা হলো না ঢেঁকির”

“স্বর্গে বুঝি আর ধান ভাঙা হলো না ঢেঁকির”


মঈনুল হাসান নিশান(সরকারি পি সি কলেজ
,বাগেরহাট)

“ঢেকি” গ্রাম বাংলার এক নিত্যদিনের সঙ্গি।বাঙালী জাতির ঐতিহ্য।অবহমান কাল থেকে গ্রাম বাংলার মানুষ এটি ব্যবহার করে অাসছে।ঢেঁকি নিয়ে অনেক কবি সাহিত্যিক অনেক গল্প ও কবিতা লিখেছেন।ঢেঁকির গুন নিয়ে অনেক প্রবাদ বাক্যও রচনা করেছেন গুনিজনেরা।প্রবাদে আছে “ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙে”।একসময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ঢেঁকি ছিলো।তবে দুঃখের বিষয় হলো,মাত্র এক দশক আগেও গ্রাম বাংলায় ঢেঁকিতে ধান ভাঙার ধুপ ধাপ শব্দ শোনা গেলেও আজ তা আর শোনা যায় না।খুবই নগন্য সংখ্যক কৃষকের বাড়িতে আজ ঢেঁকির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে ঢেঁকির জায়গা খুব সহজেই দখল করে নিয়েছে ধানকল।অথচ পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে ঢেঁকি ছাটা চাল অত্যান্ত পুষ্টিকর।

ঢেঁকি হলো ভারত উপমহাদেশের ধান ভাঙার যন্ত্র।আর্য ভারতে প্রধান ২টি শস্য গম ও বার্লির খোসা ছাড়ানোর জন্য ইন্দো আর্যগন উদুখোলা মুসালা ব্যাবহার করত।উদুখোলা ও মুসালার অন্য রুপ হলো ঢেঁকি।

ঢেঁকি একটি কাঠের খন্ড,যা বাবলা,গাব বা বেল গাছ দিয়ে তৈরি করা হতো।এটি সাধারণত ৬-৭ হাত লম্বা ও ১ হাত থেকে কিছুটা কম চওড়া।একখণ্ড পাথরের চটান বা কাঠ খন্ডে গর্ত খুড়ে মুষলের সাহায্যে ধান ভাঙা হয়।মুষলের মাথায় লোহার পাত জড়ানো থাকে।

শস্য কোটার জন্য ঢেঁকির গর্তে শস্য ঢেলে দিয়ে এক থেকে দুজন ঢেঁকির গোড়ায় ক্রমাগত পা দিয়ে চাপ দেয়।অন্যদিকে আরেকজন মুষলের আঘাতের ফাঁকেফাঁকে হাত দিয়ে শস্য নেড়ে দেয়।

ঢেঁকি বসানো হতো রান্নাঘরে।তখন অবশ্য রান্নাঘর বলে কিছু ছিলোনা।একে ঢেঁকিঘর বলা হতো।শীতের দিনে গ্রাম গঞ্জে পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যেত। তখন বাড়িতে অতিথি এলে বা পিঠা তৈরিতে ঢেঁকি ব্যাবহার হতো।
কিন্তু এখন আর ঢেঁকি ব্যাবহার হয় না।বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে গ্রাম গঞ্জে পৌছে গেছে ইলেক্ট্রিসিটি। গ্রাম গঞ্জে এখন ধানকল ব্যাবহার করা হয়।

বাগেরহাট জেলার মড়েলগঞ্জ উপজেলার ঢেপুয়ারপার গ্রামের প্রবীণ মমতাজ বেগম বলেন অতিতে দেশের প্রতিটি গ্রামের প্রত্যেকটি কৃষক, মহাজন পরিবারে ঢেঁকি ছিলো।তখন আশেপাশের গরীব মহিলারা ধান ভেঙে বিনিময়ে চাল নিত।পৌষ মাসে নতুন ধান ভেঙে নবান্ন উৎসব পালন করা হতো। এখন আর কেউ ধান ভাঙতে ঢেঁকি ব্যাবহার করে না।গ্রামের অল্প কিছু বাড়িতে এখন চাল গুড়ো করতে ঢেঁকি ব্যাবহার করা হলেও অধিকাংশ এখন কলে ধান ও চাল গুড়ো করে।

ঢেঁকি বাঙালী জাতির ঐতিহ্য।এক দশক আগের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় যন্ত্র। বর্তমান যুবসমাজ ঢেঁকি সম্পর্কে অজ্ঞাত।আধুনিক ধানকল ব্যাবহার করে কষ্ট ছাড়াই কৃষক ধান ভাঙতে পারছে,সময় ও বাচছে।তবে অগের মতন পুষ্টিকর খাদ্যশস্য আর পাওয়া যাচ্ছে না।

ঢেঁকি ছাটা চালের মতন পুষ্টিকর চাল পেতে অবশ্যই ঢেঁকির ব্যাবহার বাড়ানো উচিত। সেক্ষেত্রে আধুনিক ও দেশি প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ চালিত ঢেঁকি ব্যাবহার করা যেতে পারে।এতে কৃষকের কষ্ট লাঘব হবে,সময় বাঁচবে এবং অতিতের ঢেঁকি ছাটা চাল ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে কয়েকটি নকশা করা ঢেঁকি সংরক্ষণ করা আছে।বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালী জাতির হারিয়ে যেতে বসা নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় যন্ত্র ঢেঁকি অধিক সংখ্যক পরিমাণে সংরক্ষণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD