শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ০৪:২৯ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
নতুন বাজার পত্রিকা- বাংলাদেশের সমস্ত জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস ও প্রবাসে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে! বিস্তারিত: ০১৭১২৯০৪৫২৬/০১৯১১১৬১৩৯৩
সংবাদ শিরোনাম :
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরো ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকবেন আজকের শুক্রবার কী আছে ভাগ্যে শ্রীপুরে পানি দূষণে দুটি কারখানাকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা পটুয়াখালী পৌর নিউমার্কেট ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর করোনা পজেটিভ সিএমএইচে ভর্তি ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’র নাম পরিবর্তন করে গ্লো অ্যান্ড লাভলি তারাগঞ্জে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা চেষ্টা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ১৮ তম আসামি এ বি মুহাম্মদ খুরশিদ আর নেই হবিগঞ্জে সংবাদ কর্মীর মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনতাই আসামি ধরতে পুলিশের অভিযান ঘাটাইলে টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ : দুঃসহ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে আরশেদ আলী ছেলে আরমান
পঞ্চগড়ে ভুল প্রশ্নে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা দুশচিন্তায় অভিভাবকরা

পঞ্চগড়ে ভুল প্রশ্নে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা দুশচিন্তায় অভিভাবকরা


মো: বাবুল হোসাইন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ এসএসসি পরীক্ষায় পঞ্চগড়ের দুই উপজেলার দু’টি কেন্দ্রে শুরুতে ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। ভুল প্রশ্ন সরবরাহ করায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় ওই কেন্দ্র দু’টির শিক্ষার্থীদের। ভুল প্রশ্ন দেয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর তাদের সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসন তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানায়, সারা দেশের মতো পঞ্চগড়ের ৩৪ টি কেন্দ্রে এক যোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষায় আটোয়ারী সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষা শুরুর সাথে সাথেই প্রথমে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা বিষয়ের ২০১৮ সালের প্রশ্ন (বহু নির্বাচনী) সরবরাহ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার কোড নম্বরের মিল না পেয়ে কক্ষ পরিদর্শকদের বিষয়টি জানান। প্রশ্ন দেয়ার ১৫ মিনিট পর ওই প্রশ্ন ফিরিয়ে নেয়া হয়। এরপর আবার তাদের বাংলা ১ম পত্র বিষয়ের ২০১৮ সালের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কক্ষ পরিদর্শকদের আবারো জানালে পরে ২০১৯ সালের সঠিক প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। এতে ওই কেন্দ্রে থাকা উপজেলার ১৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬০৫ জন শিক্ষার্থীর অধিকাংশের ৩০ মিনিট করে সময় নষ্ট হয়। সঠিক প্রশ্নপত্র পেয়ে সময়ের অভাবে অনেকেই সব কটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেন। এমনকি অনেক শিক্ষার্থী এই দুর্ভোগে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরীক্ষার শেষ দিকে ৫ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেয়া হয় বলেও জানা যায়। ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কেন্দ্র পরিদর্শন করে এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা শনিবারের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে জানা যায়। এদিকে জেলার বোদা উপজেলার বোদা পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রেও একই ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রে বাংলা ১ম পত্র বিষয়ে ২০১৯ সালের প্রশ্নের পরিবর্তে ২০১৮ সালের প্রশ্ন (বহু নির্বাচনী) সরবরাহ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা কক্ষ পরিদর্শকদের অবহিত করলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তাদের সঠিক প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। ওই কেন্দ্রে ১৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এক মেধাবী শিক্ষার্থী জানান, আটোয়ারী সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমাদের দুই বার ভুল প্রশ্ন দেয়া হয়েছে। এতে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়। আতঙ্কে আমরা কান্নায় ভেঙে পড়ি। সময়ের অভাবে লিখিত পরীক্ষায় ভালোভাবে লিখতে পারিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বাণিজ্য বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, বোদা পাইলট মডেল গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে আমাদের ২০১৮ সালের বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। পরে আমরা প্রতিবাদ জানালে আমাদের ২০১৯ সালের প্রশ্ন এনে দেয়। কিন্তু এর মধ্যে আমাদের ৩০ মিনিট সময় নষ্ট হয়। সময়ের অভাবে আমরা লিখিত সবগুলো প্রশ্নের উত্তর করতে পারিনি। এ বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ করলে ওই কেন্দ্রের শিক্ষকরা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, ভুল প্রশ্ন দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। পরে সময়ও বাড়িয়ে দেয়া হয়নি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। আটোয়ারী সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব ফজলুল করিম বলেন, প্যাকেটের উপর বাংলা ১ম পত্রই লেখা ছিলো। কিন্তু ভেতরে ভুল প্রশ্ন ছিলো। পরে আমরা তা পরিবর্তন করে দেই। পরীক্ষার শেষ দিকে দুয়েক মিনিট সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়। বোদা পাইলট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব রবিউল আলম সাবুল বলেন, এটা তেমন কিছু না আমার কেন্দ্রে যারা অনিয়মিত শিক্ষার্থী তাদের জন্য ২০১৮ সালের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে তারা ২০১৯ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের ২০১৯ সালের প্রশ্নই সরবরাহ করা হয়। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহেতেশাম রেজা জানান, বিজি প্রেস থেকে ফুয়েল প্যাকেটে প্রশ্নপত্রগুলো পাওয়া হয়। প্রত্যেক কেন্দ্রে সেভাবেই তা সরবরাহ করা হয়। প্রত্যেক প্যাকেটের উপরেই বাংলা ১ম পত্র লেখা ছিলো। কিন্তু তা খুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করার পর জানা যায় প্রশ্নগুলো ভুল ছিলো। এটা যেখানে প্যাকেট করা হয় সেখানেই ত্রুটি হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহেতেশাম রেজাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: বাবুল হোসাইন,
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ

Please Share This Post in Your Social Media






© natunbazar24.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY AMS IT BD